নীলফামারীর সৈয়দপুরে পেট্রোল ছিটিয়ে আগুন দেওয়ার ঘটনায় দগ্ধ এক বৃদ্ধ চার দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে মারা গেছেন। এ ঘটনায় মৃত্যুর তিন দিন পরও মামলা গ্রহণ না করার অভিযোগ তুলে লাশ নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল, থানা ঘেরাও ও সড়ক অবরোধ করেছেন ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।
সোমবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার খাতামধুপুর ইউনিয়ন থেকে প্রায় সাত কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে স্থানীয়রা লাশ নিয়ে শহরে প্রবেশ করেন। পরে তারা বিক্ষোভ মিছিল শেষে সৈয়দপুর থানার প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নেন। এতে থানা এলাকার সড়ক অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে এবং সৈয়দপুর-নীলফামারীগামী শেরে বাংলা সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
প্রায় দুই ঘণ্টা পর পুলিশ এজাহার গ্রহণ করে মামলা নথিভুক্ত করে। তবে এরপরও অবরোধ প্রত্যাহার না করায় সড়কের উভয় পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে। বিক্ষোভকারীরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করিম রেজার অপসারণ এবং ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন। প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে এ পরিস্থিতি বিরাজ করে।
জানা গেছে, গত বুধবার ভোর ৪টার দিকে উপজেলার খাতামধুপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাচারীপাড়া এলাকায় আফাজ উদ্দিনের বড় ছেলে নুর হোসেনের নির্মাণাধীন বাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। এতে ঘটনাক্রমে সেখানে থাকা আফাজ উদ্দিন দগ্ধ হন। পরে তাকে সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
অবস্থার অবনতি হলে তাকে প্রথমে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে একই দিন ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত শনিবার দুপুর ১টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
নিহতের ছোট ছেলে আবু বকর সিদ্দিক দাবি করেন, প্রায় পাঁচ মাস আগে পাতা কুড়ানোকে কেন্দ্র করে একই ইউনিয়নের মাঝাপাড়া এলাকার আব্দুস সালাম চঞ্চলের সঙ্গে তাদের বিরোধ সৃষ্টি হয়। ওই ঘটনার জের ধরেই মঙ্গলবার রাতে তার ভাইকে মারধরের ঘটনা ঘটে।
তিনি অভিযোগ করেন, এর প্রতিশোধ নিতে চঞ্চল ও তার পরিবারের সদস্যরা তাদের বাড়িতে পেট্রোল ছিটিয়ে আগুন দেন। তবে তার ভাই ওই রাতে পুরোনো বাড়িতে অবস্থান করায় বৃদ্ধ বাবা আগুনে দগ্ধ হন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ঘটনার পর থানায় অভিযোগ দিলেও তিন দিনেও মামলা গ্রহণ করা হয়নি। উল্টো ছয় লাখ টাকার বিনিময়ে বিষয়টি মীমাংসার জন্য চাপ দেওয়া হয়েছে। এ কারণে বাধ্য হয়ে তারা লাশ নিয়ে থানা ঘেরাও করেছেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত পক্ষ। তাদের দাবি, আক্রোশবশত মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর উদ্দেশ্যে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। ঘটনার কোনো প্রত্যক্ষ সাক্ষী নেই এবং তাদের কেউ এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত নয়। সুষ্ঠু তদন্ত হলে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে বলে তারা দাবি করেন।
এ বিষয়ে সৈয়দপুর থানার ওসি রেজাউল করিম রেজা বলেন, ‘ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও তদন্ত করেছে। তবে চিকিৎসা নিয়ে ব্যস্ত থাকায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে কেউ লিখিত অভিযোগ দিতে পারেননি। পরে একটি এজাহার জমা দেওয়া হলেও তাতে কিছু ত্রুটি থাকায় সংশোধনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। অবশেষে সোমবার মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’