নাশকতার মামলায় সাবেক এমপির স্ত্রী কারাগারে

পঞ্চগড়ে আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন, সরকার উৎখাত ও নাশকতা চেষ্টার মামলায় পঞ্চগড়-১ আসনের আওয়ামী লীগ মনোনীত সাবেক সংসদ সদস্য নাঈমুজ্জামান ভূইয়া মুক্তার স্ত্রী অবসরপ্রাপ্ত মেজর কাজী মৌসুমীসহ দুজনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। সোমবার দুপুরে জেলা ও দায়রা জজ আদালত হাজির হয়ে জামিন আবেদন করলে আদালতের বিচারক মাহাবুব আলী মুয়াদ জামিন না মঞ্জৃর করে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। অপরজন হলেন, জেলা যুব মহিলা লীগের সভাপতি নিলুফার ইয়াসমিন।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২৫ সালের ২৩ জুন রাতে পঞ্চগড়-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য নাঈমুজ্জামান ভূইয়া মুক্তার বাড়িতে তার স্ত্রী কাজী মৌসুমীর নেতৃত্বে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ৭৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কেক কাটাসহ জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু স্লোগান দেওয়া হয়। পরে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় ২০ জুলাই সাবেক সংসদ সদস্য নাঈমুজ্জামান ভূইয়া মুক্তা, তার স্ত্রী কাজী মৌসুমীসহ ৪৭ জন আওয়ামী লীগ ও তাদের অঙ্গ–সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১১০/১২০ জনকে আসামি করে পঞ্চগড় সদর থানায় একটি মামলা করেন। 

মামলাটি করেন সদর থানার এসআই মানিক মিয়া। ওই মামলায় আদালতে উপস্থিত হয়ে জামিন আবেদন করলে আদালত তাদের জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

পঞ্চগড় জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মির্জা নাজমুল ইসলাম কাজল বলেন, সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি আলোচিত মামলায় এক নম্বর আসামি ছিলেন সাবেক এমপি নাঈমুজ্জামান ভূইয়া মুক্তা। মামলায় অবসরপ্রাপ্ত মেজর কাজী মৌসুমীসহ ১১০ থেকে ১২০ জন আসামি ছিলেন। কাজী মৌসুমী উচ্চ আদালতে ৬ সপ্তাহের জামিনে ছিলেন। আজকে পূর্ণাঙ্গ শুনানি ছিল। তারা আদালতে উপস্থিত হয়ে জামিন আবেদন করেন। আমি রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হিসেবে তাদের জামিনের বিরোধিতা করি। নিষিদ্ধ সংগঠন হিসেবে আওয়ামী লীগ তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে না। কিন্তু তারা আওয়ামী লীগের ৭৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করে। কেক কাটে এবং জয় বাংলা বলে স্লোগান দেয়। তারা মানুষকে বিভ্রান্ত করে। আমরা এই বিষয়গুলো আদালতে উত্থাপন করি। বিজ্ঞ আদালত তাদের জামিন নামঞ্জুর করে জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

আসামিপক্ষের আইনজীবী মির্জা সারোয়ার হোসেন বলেন, একটি মামলার এজাহারনামীয় ২ নম্বর আসামি কাজী মৌসুমী এবং ৬ নম্বর আসামি নিলুফার ইয়াসমিনকে মহামান্য হাইকোর্ট ৬ সপ্তাহের জামিন দেন। আমরা মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার আগেই নির্দিষ্ট সময়ে বিজ্ঞ জেলা ও দায়রা জজ আদালতে তাদের আত্মসমর্পণ করিয়ে জামিন আবেদন করেছিলাম। কিন্তু শুনানি শেষে বিজ্ঞ আদালত তাদের জামিন নামঞ্জুর করেন। আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আমরা আশা করি, আইনের মাধ্যমেই অচিরে তাদের জামিন মঞ্জুর করাতে পারব।