গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে ১৪৪ ধারা জারি করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)। শহরের চৌমাথায় একই সময়ে পৃথক দুই দল সমাবেশ আহ্বান করায় সংঘর্ষ এড়াতে এই পদক্ষেপ নিয়ে প্রশাসন।
আজ মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তার ফেসবুক পেজে এ সংক্রান্ত একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ জাবের আহমেদ স্বাক্ষরিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মঙ্গলবার বিকেল ৪টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত পলাশবাড়ী শহরের চৌমাথা থেকে ৫০০ মিটার এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি থাকবে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, পাঁচ বা ততোধিক ব্যক্তির সমাবেশ, কোনো ধরনের অস্ত্র, লাঠি বা আগ্নেয়াস্ত্র বহন, শ্লোগান বা মিছিল, শব্দবর্ধক যন্ত্র নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন ইউএনও। তবে ১৪৪ ধারা জারিকালে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক থাকবে।
ইউএনও স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, পলাশবাড়ী উপজেলাধীন বরিশাল ইউনিয়নের দুইটি দলের সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে ওই দুটি রাজনৈতিক দলের পরস্পর বিরোধী অবস্থানের কারণে পলাশবাড়ী চৌমাথা হতে ৫০০ মিটার এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই মঙ্গলবার পলাশবাড়ী উপজেলা শহরের চৌমাথা থেকে ৫০০ মিটার এলাকায় লোক সমাগমের কারণে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি বা আইন শৃঙ্খলার মারাত্মক অবনতি হতে পারে এবং জনগণের জানমালের নিরাপত্তাহানী ঘটতে পারে। যেকোন ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে পলাশবাড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সেহেতু শেখ জাবের আহমেদ ওই এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করেন। সেখানে বিপুল সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
এর আগে গতকাল সোমবার (২৯ জুন) রাতে উপজেলার জুনদহ এলাকায় বিএনপি ও জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ৭ জন আহত হন। এ ঘটনায় উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ তুলেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে মঙ্গলবার বিকেল ৪টায় পলাশবাড়ী চৌমাথায় বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশের ঘোষণা দেয় উপজেলা বিএনপি। একই সময়ে একই স্থানে কর্মসূচির ঘোষণা দেয় উপজেলা জামায়াতও। এ নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দেয়।