পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফরোজ শাহীন খসরুর বিরুদ্ধে গ্রাম পুলিশে চাকরি দেওয়ার নামে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে লাইভ করা রেহেনা বেগম উর্মি নামে এক নারীর বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা হয়েছে।
বুধবার তেঁতুলিয়া থানায় মামলাটি করেন উপজেলা প্রশাসনের চুক্তিভিত্তিক কর্মচারী মনোয়ার হোসেন। মামলায় রেহেনা বেগম উর্মিসহ অজ্ঞাতনামা আরও পাঁচ থেকে ছয়জনকে আসামি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে পুলিশ।
এর আগে গত সোমবার তেঁতুলিয়া উপজেলা পরিষদ চত্বরে ফেসবুক লাইভে এসে রেহেনা বেগম উর্মি অভিযোগ করেন, তার ছেলেকে গ্রাম পুলিশে চাকরি দেওয়ার কথা বলে ইউএনও আফরোজ শাহীন খসরু তার কাছ থেকে এক লাখ ৮০ হাজার টাকা নিয়েছেন। পরে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। একই অভিযোগে তিনি জেলা প্রশাসকের কাছেও লিখিত আবেদন করেন।
অভিযোগপত্রে বলা হয়, তেঁতুলিয়া উপজেলার মাগুরা এলাকার বাসিন্দা রেহেনা বেগম উর্মি তার ছেলের কর্মসংস্থানের জন্য ইউএনওর কাছে গেলে তাকে গ্রাম পুলিশে চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়। এ জন্য তিন লাখ টাকা দাবি করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। ছেলের চাকরির আশায় ধারদেনা করে তিনি গত বছরের ডিসেম্বরে প্রথম দফায় এক লাখ ৮০ হাজার টাকা দেন বলে দাবি করেন। চাকরি হওয়ার পর বাকি টাকা পরিশোধের কথা ছিল। তবে টাকা নেওয়ার পরও দীর্ঘদিন চাকরি না দেওয়ায় তিনি প্রতারিত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন।
এদিকে গত ২৪ জুন রংপুর বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় থেকে জারি করা এক আদেশে ইউএনও আফরোজ শাহীন খসরুকে তেঁতুলিয়া থেকে ঠাকুরগাঁওয়ের রানীশংকৈল উপজেলায় বদলি করা হয়। বদলির পর উপজেলা পরিষদ চত্বরে ফেসবুক লাইভে এসে ওই নারী তার অভিযোগ প্রকাশ করেন।
লাইভে রেহেনা বেগম উর্মি বলেন, ‘আমাকে জেলে দেন, ফাঁসি দেন, কিন্তু আমার টাকাটা ফেরত দেন। আমি গরিব মানুষ। টাকার চিন্তায় ঘুমাতে পারি না। হয় আমার ছেলেকে চাকরি দেন, না হয় টাকা ফেরত দেন।’ তিনি আরও দাবি করেন, ইউএনওর বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলার পর তাকে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে হয়রানির হুমকি দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, ইউএনওর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগকে ষড়যন্ত্রমূলক ও ভিত্তিহীন দাবি করে গত মঙ্গলবার তেঁতুলিয়া উপজেলা অফিসার্স ক্লাবের উদ্যোগে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং স্থানীয় বাসিন্দারা অংশ নেন।
মামলার বাদী মনোয়ার হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।
অভিযোগের বিষয়ে ইউএনও আফরোজ শাহীন খসরু বলেন, ‘আমি ওই নারীকে চিনি না। তার সঙ্গে কোনো দিন আমার দেখা হয়নি। যে নিয়োগের কথা বলা হচ্ছে, সেটি বাতিল হয়েছে। সেখানে তার ছেলের নামে কোনো আবেদনও নেই। পুরো বিষয়টি একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র।’
পঞ্চগড়ের পুলিশ সুপার আবু সাইম বলেন, ‘মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। একই সঙ্গে আসামিদের গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়াও চলছে।’