জয়পুরহাটে সরকারি তদারকির অভাব ও জনবল সংকটে এক সময়ের সম্ভাবনাময় রেশম শিল্প মুখ থুবড়ে পড়লেও, নতুন করে আশার আলো দেখছেন স্থানীয় কৃষকরা। অনুকূল আবহাওয়া ও কম খরচে ভালো লাভ হওয়ায় জয়পুরহাট সদর ও পাঁচবিবি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় রাস্তার পাশে ও পতিত জায়গায় বাড়ছে তুঁত চাষ।
জয়পুরহাটে লাভজনক ফসল ও বিকল্প কৃষির প্রতি আগ্রহ বাড়ছে চাষিদের। আলু, ভুট্টা, সরিষার পাশাপাশি এখন রেশম চাষে নতুন করে আশার আলো দেখছেন কৃষকরা। অনুকূল আবহাওয়া ও তুলনামূলক কম খরচে ভালো লাভের সুযোগ থাকায়, বিকল্প আয়ের উৎস হিসেবে নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে রেশম শিল্প।
জয়পুরহাট সদর ও পাঁচবিবি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় রাস্তার ধারে ও পতিত জায়গায় বাড়ছে তুঁত গাছের চাষ। ঘরে ঘরে বাণিজ্যিকভাবে পালন করা হচ্ছে রেশম পোকার লার্ভা। স্বল্প জায়গায় চাষ সম্ভব বলে নারীরাও যুক্ত হচ্ছেন এই কাজে। যা গ্রামীণ অর্থনীতির গতি ফেরাচ্ছে।
তবে তুঁত চাষে কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। ব্যক্তিগত ফসলি জমিতে এটি মোটেও লাভজনক নয় বলে জানান ভুক্তভোগী চাষিরা।
রেশম চাষি হাকিম মিয়া বলেন, ‘সড়কের দুপাশ, পতিত জায়গাসহ অনুৎপাদনশীল সরকারি জায়ায় রেশমের তুতগাছের চাষ লাভজনক হলেও চাষিদের ব্যক্তিগত তিন ফসলি জমিতে তুতগাছ চাষ মোটেও লাভজনক নয়।’
মাঠ পর্যায়ের কর্মীরা বলছেন, এক বিঘা জমিতে তুঁত গাছ চাষ করে রেশম পালন করলে বছরে লাখ টাকার বেশি আয় করা সম্ভব।
জয়পুরহাট সদর ও পাঁচবিবি মাঠ কর্মী মুন্না দেওয়ান বলেন, ‘জয়পুরহাটের বিভিন্ন এলাকায় রেশম চাষে কৃষকরা আগ্রহী হচ্ছেন। এক বিঘা জমিতে তুঁত গাছ চাষ করে রেশম পালন করলে প্রায় ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা আয় করা সম্ভব। খরচ শুধু তুঁত গাছে পানি ও সার দিতে হবে। রাস্তার ধারে তুঁত গাছ চাষ করলে জমির খরচও বেঁচে যাবে।’
জনবল সংকট ও উদাসীনতায় এক সময় মুখ থুবড়ে পড়েছিল এই শিল্প। তাই এখন চাষিদের ঘর তৈরিসহ আর্থিক অনুদান দিচ্ছে সরকার।
জয়পুরহাটের ফার্ম ম্যানেজার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘কৃষকদের সমস্যা সমাধানে আমরা কাজ করছি। প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় সহায়তা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এক বিঘা জমিতে তুঁত গাছ চাষ করলে তাকে রেশম পালনের জন্য সরকার থেকে এক লক্ষ টাকা দেওয়া হচ্ছে।’
লোকবল কমের কথা স্বীকার করে এই কর্মকর্তা বলেন, ‘আমি অতিরিক্ত দায়িত্বে আছি। বর্তমান সরকার সুদৃষ্টি দিচ্ছে রেশম খাতকে।’
পরিকল্পিত উদ্যোগ, নিয়মিত তদারকি, সহজ ঋণ ও বাজারজাতকরণ সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে জয়পুরহাটের রেশম শিল্প আবারও হারানো গৌরব ফিরে পাবে, প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।