রংপুরের পীরগাছা ও পীরগঞ্জ উপজেলায় পৃথক পাঁচটি দুর্ঘটনায় একই দিনে পাঁচজনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত ঘটে যাওয়া এসব দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে রয়েছেন দুই নারী, এক ব্যবসায়ী, এক স্কুলছাত্রী ও এক মোটরসাইকেল আরোহী।
পীরগাছা রেলওয়ে স্টেশনসংলগ্ন সুখানপুকুর এলাকায় ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে পৃথক ঘটনায় দুই নারীর মৃত্যু হয়। তাদের মধ্যে উপজেলার দক্ষিণ দুধিঁয়াবাড়ী গ্রামের বাসিন্দা জামাল উদ্দিনের স্ত্রী রাশেদা বেগম (৫৫) ‘পদ্মরাগ’ ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান। অপরজন আনুমানিক ২০ বছর বয়সী এক তরুণী। তার পরিচয় এখনো শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
পীরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, দুই নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পরিচয়হীন নারীর পরিচয় শনাক্তে কাজ চলছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
একই দিন সকালে পীরগাছা বাজারে নিজ বাড়ির ছাদ থেকে পড়ে নাহিদ হোসেন (৩৮) নামে এক ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়। তিনি উপজেলার বটতলা এলাকার ফজলু মিয়ার ছেলে। স্বজনরা তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করলে পথেই তার মৃত্যু হয়।
স্থানীয় ব্যবসায়ী আব্দুল কাদের বলেন, "নাহিদ একজন পরিচিত ও ভদ্র ব্যবসায়ী ছিলেন। তার এমন আকস্মিক মৃত্যু আমাদের সবাইকে স্তব্ধ করে দিয়েছে।"
অন্যদিকে পীরগঞ্জ উপজেলার ৫ নম্বর মদনখালী ইউনিয়নের খেরুয় আলমপুর গ্রামের ধারাকোল বিলে গোসল করতে নেমে পানিতে ডুবে রোজাতুল খাতুন (১৫) নামে নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়। রোজাতুল স্থানীয় রজ্জব আলীর মেয়ে।
স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
রোজাতুলের এক স্বজন বলেন, "গোসল করতে গিয়ে এমন দুর্ঘটনা ঘটবে কেউ ভাবতে পারেনি। মুহূর্তের মধ্যেই একটি পরিবারের সব স্বপ্ন শেষ হয়ে গেল।"
এদিকে ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের পীরগঞ্জ উপজেলার বড়দরগাহ বাজার এলাকায় যাত্রীবাহী বাসের চাপায় উজ্জ্বল রায় নামে এক মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। তিনি লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার দুলাল রায়ের ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাস্তা পার হতে থাকা দুই পথচারীকে বাঁচাতে গিয়ে মোটরসাইকেলটির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন চালক। এ সময় পেছন থেকে আসা 'রোমান পরিবহন'-এর একটি বাস মোটরসাইকেলটিকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই উজ্জ্বল রায়ের মৃত্যু হয়।
দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেলের চালক গুরুতর আহত হন। তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
হাইওয়ে পুলিশের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা জানান, দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি শনাক্তের পাশাপাশি ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্ত করা হচ্ছে। মরদেহ উদ্ধার করে আইনি প্রক্রিয়া শেষে স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বলেন, একই দিনে এতগুলো প্রাণহানির ঘটনা অত্যন্ত মর্মান্তিক। রেললাইন পারাপারে সচেতনতা বৃদ্ধি, ছাদে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, শিশু-কিশোরদের জলাশয়ে নজরদারির আওতায় রাখা এবং মহাসড়কে যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা।