গাইবান্ধায় সমাজের অনেক জায়গায়ই প্রবেশাধিকার নেই হরিজনদের

সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি বদল না হওয়ায় স্বাধীনতার পাঁচ দশক পরেও তীব্র বৈষম্যের শিকার গাইবান্ধার হরিজন সম্প্রদায়। নিজ এলাকার হোটেল-রেস্তোরাঁয় নেই প্রবেশাধিকার। নিজস্ব জমি না থাকায় পরিত্যক্ত ও সরকারি জমিতে ঝুপড়ি তুলে বা ছোট কলোনি করে বসবাস করছেন জেলার প্রায় ১ লাখ দলিত ও হরিজন।

পরিচ্ছন্নতাকর্মীর পেশায় গাইবান্ধার সড়ক, হাট-বাজার, অফিস-আদালতে বংশ পরম্পরায় কাজ করছেন হরিজন সম্প্রদায়ের মানুষ। তবে সমাজে অবহেলা ও বৈষম্যের শিকার হরিজনেরা এখনও নিজ এলাকার হোটেলে বসে খাবার খেতে পারেন না। খাবার দেওয়া হয় বাইরে। পানি খাওয়ার জন্য মেলেনা গ্লাস বা মগ। আধুনিক যুগে এসেও জাত ও পেশার কারণে পরিচিত সমাজে বঞ্চনার শিকার হরিজনেরা।  

দরিদ্র হরিজনদেন আবাসন সমস্যা প্রকট। নিজস্ব জমি না থাকায় ঘাঘটপাড়, রেলগেটসহ শহরের বিভিন্ন এলাকার নদীর পাড়, রেলওয়ের জায়গা এবং পরিত্যক্ত খাস জমিতে বসতি গড়েছে এই দরিদ্র জনগোষ্ঠী।

ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা এই জনগোষ্ঠীর দীর্ঘদিনের দাবি একটি স্থায়ী কলোনি নির্মাণের। জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসন নানা সময়ে প্রতিশ্রুতি দিলেও পূরণ হয়নি দাবি। 

সচেতন নাগরিকরা বলছেন, দলিত জনগোষ্ঠীর মানবাধিকার ও সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিতে জন-সচেতনতাসহ সরকারের ভূমিকা প্রয়োজন। আর সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি বদলের আহ্বান জানিয়ে হরিজনদের জীবনমান উন্নয়নে উদ্যোগের কথা জানিয়েছে প্রশাসন। 

গাইবান্ধা অবলম্বনের নির্বাহী পরিচালক প্রবীর চক্রবর্ত্তী বলেন, ‘দলিত জনগোষ্ঠীর মানবাধিকার ও সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিতে জন-সচেতনতার পাশাপাশি সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেওয়া উচিত।’

গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা বলেন, ‘সবার সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে হবে। পাশাপাশি হরিজনদের জীবনমান উন্নয়নে আমরা বেশকিছু উদ্যোগ নেওয়া কথা ভাবছি।’

হরিজনদের প্রতি বৈষম্য দূর করতে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান সমাজকর্মীদের।