কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে সার না পেয়ে কৃষকেরা জোট বেধে একটি ডিলার পয়েন্টের গুদামের দরজা ভেঙে ১৯৭ বস্তায় প্রায় ১০ হাজার কেজি সার নিয়ে যায়। রোববার দুপুরে দিকে উপজেলার শিলখুড়ি ইউনিয়নের মেসার্স শাহ আমানত ডিলার পয়েন্টে এ ঘটনা হয়। পরে পুলিশের তৎপরতায় ৬৭ বস্তা সার উদ্ধার করা হয়েছে।
স্থানীয়রা জানায়, শিলখুড়ি ইউনিয়নের ডিলার শাহ আমানত ট্রেডার্সের মালিক তাইফুর রহমান মুকুল পর্যাপ্ত পরিমাণ সার বরাদ্দ পেলেও কৃষকদের দিতে গড়িমসি করেন। তার মোট বরাদ্দ ছিল ১৩২০ বস্তা সার। এর মধ্যে গুদামে মজুদ ছিল ৩৪০ বস্তা সার।
আজ সকাল থেকে তাইফুর রহমান মুকুলের ডিলার পয়েন্টে দুই শতাধিক কৃষক সারের জন্য জড়ো হয়। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পর ডিলার পয়েন্ট না খোলায় কৃষকেরা গুদামের দরজা ভেঙে ১৯০ বস্তা ইউরিয়া সার নিয়ে যেতে থাকে। পরে পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং বাকী সার রক্ষা করে।
মেসার্স শাহ আমানত এন্টার প্রাইজের মালিক তাইফুর রহমান মুকুল বলেন, ‘সর্বশেষ ডিও অনুযায়ী ৩৪০ বস্তা সার আমি উত্তোলন করি। আজ বিতরণের সময় বিপুল সংখ্যক কৃষক উপস্থিত হয়। কোনোকিছু বুঝে ওঠার আগেই গুদামঘরের দরজা ভেঙে ২০২ বস্তা সার লুট করে নিয়ে যায় স্থানীয় কৃষক। অবশিষ্ট ১৩৮ বস্তা ইউরিয়া সার বিতরণ করা সম্ভব হয়নি। সেগুলো গুদামেই রক্ষিত আছে।’
ভূরুঙ্গামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিমুদ্দিন বলেন, ‘ওই ইউনিয়নে চাহিদা প্রায় ৪ হাজার বস্তা সার। কিন্তু মোট বরাদ্দ ছিল ১৩২০ বস্তা। উত্তোলন আরও কম ছিল। ফলে কৃষকরা সার না পাওয়ার শঙ্কা থেকে গুদাম থেকে সার নিয়ে গেছে। খবর পেয়ে পুলিশ এসে থামিয়েছে। এরমধ্যে ১৯৭ বস্তা সার কৃষকরা নিয়ে গেছে। পরে পুলিশের তৎপরতায় ৬৭ বস্তা ফেরত দিয়ে গেছে। বাকিগুলো উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।’