বাগেরহাটের মোংলায় অতি বৃষ্টি ও ভাইরাসের প্রভাবে একের পর এক চিংড়ি ঘেরে মড়ক দেখা দিয়েছে। মরে যাচ্ছে মাছ, শূন্য হচ্ছে ঘের। দিশেহারা হাজারো চিংড়ি চাষি।
মৎস্য বিভাগ বলছে, ঘের প্রস্তুতিতে ত্রুটি, পানির গভীরতা কম ও পোনার মানসহ বেশ কিছু কারণে দেখা দিয়েছে এই বিপর্যয়। বিজ্ঞানসম্মত আধুনিক প্রযুক্তি ও সহায়তা চান এ শিল্পে জড়িতরা।
বাগেরহাটের মোংলার অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি চিংড়ি চাষ। অথচ গত দেড় মাস ধরে অতি বৃষ্টি আর ভাইরাসের আক্রমণে একের পর এক ঘের এখন মাছশূন্য। পথে বসার উপক্রম চিংড়িচাষিদের।
মোংলায় কমপক্ষে ১৩ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে ৬ হাজার ৭০টি ঘেরে চিংড়ি চাষ হয়। গত বছর প্রায় ১২ হাজার টন বাগদা উৎপাদন হয়েছে। অথচ এবার আড়তগুলোতে মাছের সরবরাহ গত বছরের তুলনায় অর্ধেকে নেমেছে।
চিংড়ির বেচা-কেনা কমে যাওয়ায়, সংকটে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। তারা চান, সরকারি তদারকি ও কার্যকর উদ্যোগ।
মোংলা মৎস্য আড়ৎদার সমবায় সমিতি লিমিটেডের আহ্বায়ক মো. তোফাজ্জল হোসেন বলেন, এ বছর মাছ উৎপাদন কম হওয়ার বিক্রিও হচ্ছে কম। বেচাকেনা কম।
ঘেরে চিংড়ি মরে যাওয়ার পেছনে পানির চাহিদামাফিক গভীরতা না থাকা, অপরিকল্পিতভাবে চুনের ব্যবহার এবং মানসম্মত পোনা না পাওয়াকে কারণ হিসেবে বলছে মৎস্য বিভাগ।
মোংলা উপজেলা জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম বলেন, ঘের প্রস্তুতিতে ত্রুটি, পানির গভীরতা কম থাকা, অপরিকল্পিত চুন ব্যবহার এবং হ্যাচারি থেকে আসা পোনার মান নিয়ন্ত্রণ না হওয়াও এই বিপর্যয়ের কারণ।
মোংলার অর্থনীতির প্রাণ চিংড়ি শিল্প। এর সংকট কাটাতে সরকারি সহায়তার পাশাপাশি বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে চাষাবাদে জোর দেয়ার দাবি সংশ্লিষ্টদের।



