‘কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস’ নামের চলন্ত একটি ট্রেনে এক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আজ বুধবার ১০টায় দায়িত্ব অবহেলার কারণে চারজন পুলিশ সদস্য প্রত্যাহার করেছে রেলওয়ে পুলিশ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সান্তাহার রেলওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. দুলাল উদ্দিন।
এর আগে গতকাল মঙ্গলবার কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস ট্রেনে এই ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ট্রেনের ক্যান্টিন বয় আবু বক্কর ও অজ্ঞাত এক পুলিশ সদস্যের নামে মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগী নারী। মামলায় অভিযুক্ত ক্যান্টিন বয় আবু বক্করকে গ্রেপ্তার করে বগুড়ার আদলতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
প্রত্যাহার করা পুলিশ সদস্যরা হলেন– সান্তাহার রেলওয়ে পুলিশের এটিএসআই মো. খোকন এবং তিন কনস্টেবল আশিকুর রহমান, গোলাম মোস্তফা ও ফজলে রাব্বি।
সান্তাহার পুলিশের ওসি মো. দুলাল উদ্দিন বলেন, দায়িত্ব অবহেলার অভিযোগে চার পুলিশ সদস্যকে প্রতাহার করা হয়েছে। তাদের প্রত্যাহার করে পাকশী রেলওয়ে জেলা পুলিশে ক্লোজড করা হয়েছে।
এদিকে ধর্ষণের ঘটনায় তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গতকাল মঙ্গলবার ঢাকা থেকে সিরাজগঞ্জ যাওয়ার জন্য ভুলবসত কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস ট্রেনে উঠে পড়েন ভুক্তভোগী ওই নারী। পরে তাকে মাদক ব্যবসায়ী সন্দেহে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য নারী পুলিশ দারা ট্রেনের ক্যান্টিনে তার শরীর তল্লাশি করে ছেড়ে দেওয়া। এরপর তাকে আবারও ডেকে এনে তার কাছে থাকা ১১ হাজার টাকার মধ্যে ১০ হাজার টাকা পুলিশ সদস্য নিয়ে তার থেকে সাদা কাগজে স্বাক্ষর নেয়।
অভিযোগে বলা হয়, পরবর্তীতে পুলিশের সামনেই ট্রেনের ক্যান্টিন বয় আবু বক্কর নামের এক যুবক তাকে ধর্ষণ করে এবং এক পুলিশ সদস্য তাঁর শরীরের স্পর্শকাতর অংশে হাত দেয়। পরবর্তীতে সেই নারী তার ছেলেকে ফোন করে বিষয়টি জানালে তার ছেলে ট্রিপল নাইনে কল দিয়ে বিষয়টি জানান। এরপর ভুক্তভোগীকে সেখান থেকে উদ্ধার করে রেলওয়ে পুলিশ।
এ ঘটনায় ক্যান্টিন বয় আবু বক্কর ও অজ্ঞাত এক পুলিশ সদস্যের নামে মামলা দায়ের করেন ওই নারী। এই মামলায় অভিযুক্ত ক্যান্টিন বয় আবু বক্করকে গ্রেপ্তার করে। এরপর গতকালই বগুড়ার আদলতে তোলা হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।