নীলফামারীতে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৯০ শতাংশ ঘরই তালাবদ্ধ

দুই কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছিল ১০০টি ঘর। উদ্দেশ্য ছিল ভূমিহীন ও গৃহহীন মানুষের মাথা গোঁজার ঠাঁই নিশ্চিত করা। কিন্তু নির্মাণের কয়েক বছর পরও নীলফামারীর ডিমলার সেই আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৯০টি ঘরই পড়ে আছে তালাবদ্ধ। বসবাস করছে মাত্র ১০টি পরিবার। উপকারভোগী বাছাইয়ে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ স্থানীয়দের। 

জমি, ঘর সবই আছে। নেই শুধু থাকার মানুষ। এটি নীলফামারীর ডিমলার ঝুনাগাছা আশ্রয়ণ প্রকল্প। এখানকার বেশিরভাগ ঘর দীর্ঘদিন ধরে তালাবদ্ধ।

২০২০-২১ সালে এখানে ১০০টি ঘর নির্মাণ করা হয়। প্রতিটি ঘরে ব্যয় হয় দুই লাখ টাকা। উপকারভোগীদের বুঝিয়েও দেয়া হয় এসব ঘর।

স্থানীয়দের অভিযোগ, উপকারভোগী নির্বাচনে অনিয়ম, রাজনৈতিক প্রভাব ও স্বজনপ্রীতির কারণে প্রকৃত গৃহহীনরা বঞ্চিত। অভিযোগ আছে, বরাদ্দ পাওয়া অনেকেরই রয়েছে নিজস্ব বাড়ি। আবার প্রকল্পের জমি নিয়ে বিরোধ ও জনমানবহীন স্থানে অবস্থান হওয়াও ঘর খালি পড়ে থাকার অন্যতম কারণ।

নীলফামারীর ডিমলা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘ঘর পেয়ে যারা থাকছেন না, তাদের বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবে প্রশাসন। এছাড়া প্রকৃত গৃহহীনদের পুনর্বাসন করা হবে।’
  
নীলফামারীর ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইমরানুজ্জামান বলেন, ‘আমরা বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেব।’

আওয়ামী লীগ আমলে দুই ধাপে বিপুল সংখ্যক ঘর বানানো হয় গৃহহীন-ভূমিহীনদের জন্য। তবে এসব ঘর নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে শেখ হাসিনার সরকার পতনের আগেই।