গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে নতুন করে আরও তিনজনের শরীরে অ্যানথ্রাক্সের (তড়কা) উপসর্গ দেখা দিয়েছে। মঙ্গলবার তারা সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন। এ নিয়ে উপজেলায় অ্যানথ্রাক্সের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নেওয়া রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৪ জনে।
নতুন আক্রান্তরা হলেন—সর্বানন্দ ইউনিয়নের পশ্চিম বাছোহাটি গ্রামের শাহিনুর বেগম (৩৫), আনছার আলী (৬৪) ও জবেদ আলী (৪৫)।
স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার রামজীবন ইউনিয়নের বাজারপাড়া গ্রামের হায়দার আলী, তার স্ত্রী আমিনা বেগম ও চার বছরের ছেলে আদিল আত্মীয়ের বাড়িতে দাওয়াতে গিয়ে গরুর মাংস খান। ওই রাতেই তাদের জ্বর ও মাথাব্যথা শুরু হয়। পরে শরীরের বিভিন্ন স্থানে ফোস্কা দেখা দেয়।
সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. কামরুল হাসান বলেন, বিভিন্ন ইউনিয়নের ৩৪ জন অ্যানথ্রাক্সের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে এসেছেন। তাদের প্রয়োজনীয় ওষুধ দেওয়া হয়েছে। আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই; চিকিৎসায় এ রোগ ভালো হয়।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. কে এম ইফতেখারুল ইসলাম জানান, অ্যানথ্রাক্স প্রতিরোধে এ পর্যন্ত ২০ হাজার টিকা পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ১৯ হাজার গবাদিপশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে। আরও ১০ হাজার টিকার চাহিদা পাঠানো হয়েছে।
রোগের বিস্তার ঠেকাতে আক্রান্ত বা অসুস্থ পশু জবাই ও মাংস বিক্রি না করা, মৃত পশুর সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা এবং উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট বিভাগ। পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়াতে উঠান বৈঠক ও লিফলেট বিতরণ করা হচ্ছে।