ছেলে সেজে মেয়েকে বিয়ে করলেন চাঁদনী নামের এক মেয়ে। এলাকাবাসীর সালিস বৈঠকে বিচ্ছেদ করারসহ সেই মেয়েটিকে মধ্যযুগীয় কায়দায় বেত্রাঘাত, মারধর ও তওবা পড়ানো হয়। এমন একটি ঘটনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিও ছড়িয়ে পড়ছে।
আজ শনিবার দুপুরে এই ঘটনার ভিডিও প্রতিবেদকের নজরে আসে। এর আগে শুক্রবার বিকেলে পলাশবাড়ী উপজেলার বরিশাল ইউনিয়নের বাসুদেবপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটছে বলে জানা গেছে।
পরবর্তীতে কাজি অফিসের কাবিননামা সূত্রে জানা যায়, বরিশাল গ্রামের ইব্রাহীমের মেয়ে চাঁদনী আক্তার (যিনি কাবিননামায় নাম পরিবর্তন করে রাসেল নাম ব্যবহার করেন) গত ২০২৬ সালের ১৫ এপ্রিল পলাশবাড়ী পৌরসভার হিজলগাড়ী গ্রামের তাজু মিয়ার মেয়ে লাবনী আক্তারকে বিয়ে করেন।
বিয়ের পর জানা যায়, বর চাঁদনী ও কনে লাবনী উভয়েই সমকামী এবং নিজেদের এই সম্পর্ককে বৈধ ও ধামাচাপা দিতেই বর নাম পরিবর্তন করে রাসেল সেজে মেয়েকে বিয়ে করেছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মেয়ে চাঁদনীর (বর) সমকামী আচরণের বিষয়টি প্রথমে টের পান তার বাবা ইব্রাহিম খলিল। পরবর্তীতে বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। এর জেরে শুক্রবার বিষয়টি সুরাহা করার জন্য বরিশাল ইউনিয়নের লোকজনের উদ্যোগে একটি সালিস বৈঠক বসে।
ওই সালিসে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ছাড়াও স্থানীয় মসজিদের ইমাম ও মসজিদ কমিটির লোকজন উপস্থিত ছিলেন। এসময় কনে লাবনীকে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেন তারা। পরে তাদের সামনেই মাহফুজ নামের এক ব্যক্তি বাঁশের বেত (কঞ্চি) দিয়ে চাঁদনীর (বর) পুরো শরীরে বেত দিয়ে আঘাত করেন। সেই সাথে সমাজের বাকি মেয়েদের মতো থাকতে বলেন।
স্থানীয় বাসিন্দা আমজাদ বলেন, ‘গ্রামবাসীর শাসন ঠিক আছে, তবে মধ্যযুগীয় কায়দায় শাসন করাটি ঠিক হয়নি। দেশে তো আইন বলতে কিছু আছে। এভাবে দিনে-দুপুরে দাঁড়িয়ে রেখে সকলের সামনে বাঁশের বেত দিয়ে পুরো শরীরে বিশ মিনিট আঘাত ও মারধর করা ঠিক হয়নি।’
হাসান নামের এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, ‘সালিস চলাকালে চাঁদনীকে (বর রাসেল) বাঁশের বেত দিয়ে মারধর করা হয় এবং কান ধরে উঠবস করানো হয়। সাথে সে প্যান্ট শার্ট পরার কারণে তাকে নিষেধ করেন উপস্থিত গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে সালিসে উপস্থিত থাকা পলাশবাড়ী উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মাহফুজ আহমেদ বলেন, এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা করার স্বার্থে এবং স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতিতে ওই ব্যক্তিকে (চাঁদনী) তওবা পড়ানো হয়েছে।
এদিকে পলাশবাড়ি উপজেলার বরিশাল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি আমরা জানা নেই।’
পলাশবাড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরোয়ার আলম খান বলেন, ঘটনাটি ফেসবুকে দেখলাম। তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে কিন্তু এখন পর্যন্ত কেউ অভিযোগ করেনি থানায়।