বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্রের সতর্কতা ছিল উত্তরাঞ্চলে বাড়তে পারে কয়েকটি নদ-নদীর পানি। সেই সতর্কতা বাস্তবে রুপ নিতে শুরু করেছে। উজানের ঢল ও বৃষ্টির কারণে বেড়েই চলেছে তিস্তার পানি। সোমবার নদীর পানি বেড়ে বিপৎসীমার ৬ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে উত্তরের কয়েকটি জেলায় বন্যার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এরই মধ্যে পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন লালমনিরহাট এবং রংপুরের নিচু এলাকার কয়েক হাজার মানুষ। পানিতে তলিয়ে ভোগান্তিতে রংপুরের গঙ্গাছড়া ও কাউনিয়ার ১০ গ্রামের প্রায় ২০ হাজার মানুষ। শেরপুরেও তলিয়েছে ফসলের মাঠ।
পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে কাউনিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার ৬ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া ব্রহ্মপুত্র নদের পানি নুনখাওয়া পয়েন্টে ৬৯ সেন্টিমিটার, ব্রহ্মপুত্র নদের পানি চিলমারী পয়েন্টে ৫৮ সেন্টিমিটার ও ধরলা নদীর পানি সদর পয়েন্টে বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ৬৪ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বিপৎসীমার সামান্য নীচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে ধরলা ও দুধকুমার নদের পানিও।
স্থানীয় বাসিন্দা সেলিম শেখ জানান, গত ২-৩ দিন থেকে আবারও তিস্তা নদীর পানি হু হু করে বৃদ্ধি পাচ্ছে। পানি বাড়া দেখে এখানকার মানুষেরা অনেক দুশ্চিন্তায় আছেন।
এদিকে উজানের ঢল ও বৃষ্টিতে তিস্তার পানি বাড়ায় রোববার রাতে খুলে দেওয়া হয়েছে ব্যারেজের ৪৪টি গেট। পানি বাড়া অব্যাহত রয়েছে জেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত ধরলা, ব্রহ্মপুত্র, দুধকুমারসহ সবগুলো নদীর। ফলে পানিবন্দী হয়ে পড়েন লালমরিহাটের নিচু এলাকার কয়েক হাজার মানুষ।
টানা বৃষ্টিতে সোমেশ্বরী ও মহারশির পানি বাড়ায় ভাঙ্গা বাঁধ দিয়ে পানি ঢুকছে শেরপুরের ঝিনাইগাতীর নিচু এলাকায়। প্রায় ৬শ হেক্টর আমনের বীজতলা তলিয়ে ক্ষতির মুখে চাষীরা।
এদিকে, পার্বত্যাঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকায় বন্যার পানি নামলেও ভাঙা সড়ক ও বিধ্বস্ত ঘরবাড়িতে ভোগান্তিতে স্থানীয়রা। বান্দরবানে বন্যার পানি নামলেও সদরের সাথে এখনও বিচ্ছিন্ন রুমা ও থানচি। স্বাভাবিক হয়নি বিদ্যুৎ পরিস্থিতি। খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় এখনও পানির নিচে প্রায় ৯২০ হেক্টর জমির ধান ও গ্রীষ্মকালীন ফসল।
কক্সবাজারের বেশিরভাগ এলাকার পানি নেমে গেলেও এখনো তলিয়ে আছে পেকুয়ার ৬টি গ্রাম। বিভিন্ন স্থানে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ করায় পানি নামতে পারছে না জানিয়ে বাঁধ কাটার উদ্যোগ নেয়ার কথা জানিয়েছে প্রশাসন।