সুনামগঞ্জে পাহাড়ি গ্রামে সুপেয় পানির সংকট, পর্যটকদের বিচরণে বিড়ম্বনা 

সুনামগঞ্জের সীমান্তবর্তী পাহাড়ি গ্রামগুলোতে পর্যটকদের অবাধ বিচরণে সুপেয় পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে, যা ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সম্প্রদায়ের জন্য বড় এক সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবারগুলোকে পানির চাহিদা মেটাতে ঝর্ণা বা ছড়ার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এ বিষয়ে বিভিন্ন দপ্তরকে বারবার জানানো হলেও কোনো সুরাহা মিলছে না অভিযোগ গ্রামবাসীর। 

সীমান্তবর্তী তাহিরপুর উপজেলার ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী অধ্যুষিত ৪টি গ্রামে গারো, হাজং, খাসিয়া সম্প্রদায়ের অন্তত তিন শতাধিক পরিবারের বসবাস। যাদের পানির প্রধান উৎস পাহাড় থেকে আসা বিভিন্ন ঝর্না বা ছড়া। তবে সম্প্রতি পর্যটকদের কারণে ঝর্ণার পানি ঠিকমতো ব্যবহার করতে পারছেন না তারা।

পর্যটকদের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং পানির উৎসগুলোতে অতিরিক্ত চাপই এই সংকটের অন্যতম প্রধান কারণ। এছাড়া পর্যটকরা বিনা অনুমতিতে ছবি তোলা ও ভিডিও করায় বিড়ম্বনায় পড়ছেন অনেক আদিবাসী নারী।

ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর এক নারী বলেন, ‘এইখানে আমরা গোসল করতে পারি না। এইখানে পর্যটকেরা এসে ভিডিও করে ফেসবুক, টিকটকে ছাড়ে। এ নিয়ে আমাদের অনেক সমস্যা হয়।’

স্থানীয় আরেক নারী বলেন, ‘আমরা পর্যটকদের বলি, আপনারা নিচে যান, এখন আমরা গোসল করব, কাজ করব, কিন্তু তারা মানে না আরকি।’

অনেক পর্যটকই এই অভিযোগ স্বীকার করছেন। সংরক্ষিত এসব এলাকায় আরও সচেতনতা অবলম্বনের পরামর্শ তাদের।

এক পর্যটক বলেন, ‘এই ক্ষেত্রে আসলে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। পর্যটকেরা দেখতে আসে অনেক কষ্ট করেম আবার এইখানের যারা তাদেরও কাজ করা কষ্টের হয়।’

সীমান্তবর্তী এসব পাহাড়ি এলাকায় পর্যটকদের চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং সুপেয় পানি সমস্যার স্থায়ী সমাধার চান এই আদিবাসী নেতা।

বাংলাদেশ অধিবাসী ফোরাম সাংগঠনিক সম্পাদক এন্ড্রো সলোমার বলেন, ‘আমি আশা করি প্রশাসন যদি এইটার পুনর্বাসন করে, তাদের জন্য পানির ব্যবস্থা, শৌচাগারের ব্যবস্থা, গোসলখানার সুব্যবস্থা করলে এই এলাকার মানুষ শান্তিতে থাকবে।’

পর্যটকদের সচেতন করার পাশাপাশি পানি সংকট সমাধানে উদ্যোগ গ্রহণের কথা বলছে প্রশাসন।

তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান মানিক বলেন, ‘দ্রুত তারা যেন বিশুদ্ধ খাবার পানি পায় সে বিষয়ে আমাদের সরকারের পক্ষ থেকে সাবমারসিবল টিউবওয়েল আছে সেগুলো বসানোর চেষ্টা করব। যারা পর্যটক আছেন, তাদেরকেও আমরা পর্যক্রমে নির্দেশনা দেব। 

সীমান্ত এলাকায় পর্যটকদের চলাচল ও পানির সমস্যা নিরসনে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে এমনটাই প্রত্যাশা এলাকাবাসীর।