গ্রিস উপকূলে নিহত ৫ বাংলাদেশির পরিচয় জানা গেল

লিবিয়া থেকে নৌকায় করে গ্রিস যাওয়ার পথে সাগরে খাবার ও বিশুদ্ধ পানির অভাবে অন্তত ২২ অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৫ জন বাংলাদেশি, যাদের বাড়ি সুনামগঞ্জ জেলায়। এ ঘটনায় ২১ বাংলাদেশিসহ মোট ২৬ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীকে জীবিত উদ্ধার করেছে ইউরোপীয় সীমান্ত সংস্থা ফ্রন্টেক্স।

শনিবার রাতে এ ঘটনার খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।

নিহতরা হলেন—সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার কুলঞ্জ ইউনিয়নের তারপাশা গ্রামের আবু সর্দারের ছেলে মো. নুরুজ্জামান সর্দার (ময়না), মৃত ক্বারী ইসলাম উদ্দীনের ছেলে মো. সাহান এহিয়া, আব্দুল গণির ছেলে মো. সাজিদুর রহমান, রাজানগর ইউনিয়নের রনারচর গ্রামের মৃত আব্দুল মালেকের ছেলে মুজিবুর রহমান এবং দোয়ারাবাজার উপজেলার কবিরনগর গ্রামের ফয়েজ উদ্দিনের ছেলে ফাহিম আহমেদ মুন্না। জানা গেছে, মৃত্যুর পর তাদের মরদেহ সাগরে ভাসিয়ে দেওয়া হয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে এক যুবককে বলতে শোনা যায়, লিবিয়া থেকে ৪৩ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী সাগরপথে রওনা দেন। তাদের বড় নৌযানের কথা বলে একটি ছোট নৌকায় তোলা হয়। ওই নৌকায় ৫ জন সুদানের নাগরিকসহ ৩৮ জন বাংলাদেশি ছিলেন। তাদের মধ্যে অন্তত ১৮ জন মারা যান, যাদের অধিকাংশের বাড়ি সুনামগঞ্জ ও সিলেট অঞ্চলে। মৃতদেহগুলো দুই দিন নৌকায় রাখার পর দুর্গন্ধ ছড়ালে সাগরে ফেলে দেওয়া হয়।

দিরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সনজীব সরকার বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে বিষয়টি জেনেছি। দিরাইয়ের চারজন যুবক লিবিয়া থেকে গ্রিস যাওয়ার পথে মারা গেছেন বলে জানা গেছে। বিষয়টি অত্যন্ত মর্মান্তিক। আমরা ঘটনার সত্যতা যাচাই করছি। এখন পর্যন্ত পরিবারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কেউ যোগাযোগ করেনি।’

সাগরে ছয় দিন ভেসে থাকার পর গ্রিস উপকূল থেকে ২১ বাংলাদেশিসহ মোট ২৬ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীকে উদ্ধার করা হয়। জীবিত উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, এই ছয় দিনে অন্তত ২২ জনের মৃত্যু হয়েছে।