সিলেটে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে হাম আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। শিশুদের পাশাপাশি নানা বয়সীদের সংক্রমণ ও মৃত্যুতে দুশ্চিন্তায় অভিভাবকরা। হাম ও হামের উপসর্গে এই বিভাগে মৃতের সংখ্যা ৬৫ জন। চিকিৎসকরা বলছেন, সময়মতো টিকা না নেওয়া এবং সচেতনতার অভাবই হাম বিস্তারের অন্যতম কারণ।
সিলেট বিভাগে হামের প্রকোপ যেন বেড়েই চলেছে। প্রতিদিনই হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালসহ স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানগুলোতে ভর্তি হচ্ছে নতুন নতুন রোগী। গড়ে প্রতিদিনই অন্তত তিন'শ রোগী ভর্তি হচ্ছে হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে।
শিশু ছাড়া আক্রান্ত হচ্ছেন নানা বয়সী মানুষ। সম্প্রতি হাম উপসর্গে শহীদ সামশুদ্দিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান ২২ বছর বয়সী এক শিক্ষানবিশ সেবিকা।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীর এক অভিভাবক জানান, 'ডাক্তাররা বলেছেন যে, এটা হামের লক্ষণ, বা হামের প্রাদুর্ভাব সন্দেহ হয়। আপনারা তাড়াতাড়ি সিলেটে শহীদ সামশুদ্দিন হাসপাতালে নিয়ে যান। আমরা সাথে সাথে ওখানে এনে ভর্তি করেছি। ওখানে বর্তমানে চিকিৎসা চলছে। আগের চেয়ে তার অবস্থা এখন একটু উন্নত।'
চিকিৎসাধীন এক শিশুর বাবা বলেন, 'স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আমরা যে টিকাগুলো দেই, এগুলো আমরা ঠিকমতোই দিয়ে এসেছি। কিন্তু কীভাবে এমনটা হলো এটা একমাত্র ডাক্তাররাই বলতে পারবেন।'
চিকিৎসকরা বলছেন, সময়মতো টিকা না নেওয়া এবং সচেতনতার অভাবই হাম বিস্তারের অন্যতম কারণ।
সিলেটের শহীদ সামশুদ্দিন আহমেদ হাসপাতালের রেসিডেন্ট মেডিকেল অফিসার (আরএমও) মিজানুর রহমান বলেন, 'ডাক্তার, চিকিৎসক, নার্স এবং স্বাস্থ্যকর্মী যারা আছেন তারা সবাই আমরা রোস্টার করে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছি। এখনও কোনো সংকট তৈরি হয়নি। প্রতিদিন এখানে ৩৫ থেকে ৪০ জন নতুন রোগী ভর্তি হন এবং ২০ থেকে ২৫ জন প্রতিদিন সুস্থ হয়ে ছুটি নিয়ে বাড়ি যান।'
পরিস্থিতি মোকাবিলায় জোরদার করা হয়েছে টিকাদান কার্যক্রম। তবে শুধু সরকারি উদ্যোগ নয়, অভিভাবকদেরও দায়িত্বশীল হতে হবে, বলছে স্বাস্থ্য বিভাগ।
সিলেট স্বাস্থ্য বিভাগের সহকারী পরিচালক নূরে আলম শামীম বলেন, 'টিকে পেয়ে আক্রান্তের হারটা খুবই কম। বেশিরভাগেরই টিকা মিস হয়েছে- হয় টিকা দেয়নি বা তার সময় হয়নি। আর যেহেতু এটা একটা আউটব্রেক, অথবা তার সময় হয় নাই।... আরেকটা কারন দেখা গেছে যে, অপুষ্টিজনিত কারণে বাচ্চারা বেশি আক্রান্ত হয়েছে।'
চিকিৎসকেরা বলছেন, উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে। আর হামের প্রকোপ নির্মূলে যথাসময়ে টিকা নেওয়ার উপর জোর দেন তারা।
উল্লেখ্য, গত ১৫ মার্চ থেকে আজ ৬ জুন (সকাল ৮টা) পর্যন্ত সারা দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে ৬১৩ জনের প্রাণহানি হয়েছে।