গ্রিসে যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে নিখোঁজ সুনামগঞ্জের ৫ যুবক 

উন্নত জীবনের আশায় অবৈধ উপায়ে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপ যাওয়ার প্রলোভনের ফাঁদে পড়ে সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার ৫ যুবক নিখোঁজ হয়েছে। লিবিয়ার তবরুক থেকে গ্রিসে যাওয়ার পথে দিকভ্রষ্ট হওয়া একটি অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই রাবারের নৌকা থেকে অন্যদের উদ্ধার করা হলেও এখন পর্যন্ত খোঁজ মেলেনি এই পাঁচ যুবকের। এ ঘটনায় নিখোঁজ পরিবারগুলোতে চলছে মাতম।

নিখোঁজ পাঁচ যুবক হলো- শান্তিগঞ্জ উপজেলার চিকারকান্দি গ্রামের মামুন খান, রিপন মিয়া ও এনাম উদ্দিন, শত্রুমর্দন গ্রামের হৃদয় চন্দ্র পাল এবং রনসী গ্রামের ছাব্বির হোসেন তালহা।

নিখোঁজ মামুন খানের স্বজনেরা জানিয়েছেন, সংসারের স্বচ্ছলতা ফেরাতে ও উন্নত ভবিষ্যতের স্বপ্ন নিয়ে স্থানীয় দালাল চক্রের হাতে মোটা অঙ্কের টাকা তুলে দিয়েছিলেন এসব যুবকের পরিবার। চুক্তি অনুযায়ী, গত ৩ আগস্ট লিবিয়া থেকে গ্রিসে যাওয়ার উদ্দেশ্যে একটি অনিরাপদ নৌকায় তুলে দেওয়া হয় ৪২ জন যাত্রীকে। এরপর থেকেই পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তাদের সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

জানা গেছে, মাত্র ২৫ জন যাত্রী ধারণক্ষমতার ওই রাবারের নৌকাটিতে অতিরিক্ত বোঝাই করে তোলা হয়েছিল ৪২ জনকে। যার ফলে ভূমধ্যসাগরের মাঝে এসে নৌকাটি দিকভ্রষ্ট হয়ে পড়ে। পরবর্তীতে মিসরের মারসা মাতরুহ উপকূল থেকে ২৯ জন বাংলাদেশিকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হলেও এই  দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ১০ জন।

প্রিয়জনদের কোনো খোঁজ না পেয়ে চরম দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন নিখোঁজ পরিবারগুলো। তারা এখন জানেন না—তাদের প্রিয় মানুষগুলো বেঁচে আছেন, নাকি সাগরের অতলে হারিয়ে গেছেন। নিখোঁজ মামুন খানের বাড়িতে চলছে অন্তহীন কান্নাবিলাপ। দালাল চক্রকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিতের পাশাপাশি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে নিখোঁজদের সন্ধানে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া দাবি পরিবারের। 

নিখোঁজ হওয়া ছাব্বির হোসেনের বড় ভাই ইমরান আহমেদ বলেন, এখন পর্যন্ত সঠিক কোনো খবরা-খবর পাইনি। আমরা টেনশনে আছি। তবে আশা করি আমরা ভালো খবর পাবো। সেই ভালো খবরের আশায় আছি আমরা। 

নিখোঁজ মামুনের মামা আলী হোসেন বলেন, এখন পর্যন্ত তার কোন খুঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। আমরা যোগাযোগ করার চেষ্টা করতেছি। আপাতত কিছু বলতে পারতেছি না। 

এদিকে, শান্তিগঞ্জ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হিল্লোল চাকমা জানান, নিখোঁজদের পরিবারের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে ৫ যুবকের নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে।

এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুজন সরকার। তিনি বলেন, বিষয়টি পুলিশ অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিও দেখে নিখোঁজ হওয়া পরিববারের সঙ্গে যোগাযোগ করার কথা জানান তিনি। 

উল্লেখ্য, এর আগে চলতি বছরের মার্চ মাসেও একইভাবে অবৈধ পথে লিবিয়া থেকে গ্রিস যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে সুনামগঞ্জের ১৩ জন যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছিল।