বিদেশে পাঠানোর কথা বলে সুনামগঞ্জের অভিবাসন প্রত্যাশী তরুণদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা লুটে নিচ্ছে দালাল চক্র। তাদের প্রলোভনে জমি, ভিটেবাড়ি বিক্রি করে নিঃস্ব হয়েছেন অনেকেই। ঋণ নিয়ে বাড়ি ছেড়েছেন অনেকে। দালাল চক্রের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি টাকা উদ্ধারে প্রশাসনের সহায়তা চাইছেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা।
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার সৈয়দপুর ইউনিয়নের নোয়াগাঁও গ্রামের যুবক কামরুল মিয়া। স্বপ্নের ইউরোপে যেতে দালালের খপ্পরে পড়ে খুইয়েছেন ২৫ লাখ টাকা।
কামরুলের দাবি, যুক্তরাজ্য নিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি পেয়ে তিনি ২৫ লাখ টাকা দিয়েছেন তিলক গ্রামের দালাল তানবীর আহমেদ খাঁনকে। কিন্তু নির্ধারিত দিনে বিমানবন্দরে গেলে তাকে দেওয়া সব কাগজপত্র ভূয়া জানিয়ে যাত্রা বাতিল করে দেয় ইমিগ্রেশন পুলিশ। পরে অনেকবার যোগাযোগ করেও দালালের দেখা পাননি কামরুল।
তিনি বলেন, ‘আমার জায়গা বিক্রি করছি। যে ভিটাতে এখন আছি সেটাও বিক্রি করে সম্পূর্ণ টাকা আমি তারে (দালাল) দিছি। এখন আমার চলার কোনো উপায় নাই।’
স্বজন ও স্থানীয়রা জানান, সব কিছু বিক্রি করে দিয়ে দালালের খপ্পরে পড়ে নিঃস্ব হয়েছে অনেকে। সকলের সহযোগিতায় এসব টাকা ফেরত পাওয়া এবং অভিযুক্তের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।
দালাল তানবীর ও তাঁর চক্রের খপ্পড়ে পড়ে কামরুলের মতো নিঃস্ব হয়েছেন অনেক পরিবার। ভুক্তভোগীদের দাবি, সিলেটে বেনামে ট্রাভেল এজেন্সি খুলে এলাকার যুবকদের যুক্তরাজ্যের ওয়ার্ক ভিসা দেওয়ার কথা বলে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে তানবীর।
ভুক্তভোগী সিরাজ আলী বলেন, ‘তানভীর সাথে জড়িত আছে ইউসুফ খান, মালেক খানসহ অনেকে। এরা সবাই একই গ্রুপের লোক।’
আরেকজন ভুক্তভোগী বলেন, ‘আমরা সকল টাকা পয়সা দিয়েছি তানভিরের কাছে।’
অভিযুক্ত তানবীরসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেছেন কামরুল মিয়া। এ বিষয়ে অভিযুক্ত দালালের বাড়িতে গেলে তাকে পাওয়া যায়নি। ফোনে কথা বলতে চাইলেও রাজি হননি তিনি।
অভিযুক্ত দালাল তানবীর আহমেদ খান বলেন, ‘আপনি যেহেতু বড় টেলিভিশনের সাংবাদিক আপনার দাওয়াত রইলো আমার অফিসে আইসা চা খাবেন।’ এরপর অভিযোগের বিষয়ে প্রশ্ন করার আগে কল কেটে দেন তিনি।
চক্রটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করার কথা জানিয়ে জেলা পুলিশ সুপার এবিএম জাকির হোসেন বলেন, ‘প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয় আছে, আমরা তাদের সাথেও যোগাযোগ করব। কারণ এইটা লাইসেন্সের ইস্যু আছে। আমাদের তদন্ত প্রতিবেদন আসলে বোঝা যাবে কার কতটুকু ফল্ট আছে। কে কীভাবে কতটুকু জড়িত সেগুলো বের হয়ে আসবে।’
সম্প্রতি দালালের খপ্পরে পড়ে অবৈধভাবে লিবিয়া থেকে ইতালি যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে সুনামগঞ্জের ১২ যুবকের মৃত্যু হয়।