প্রস্তাবিত বাজেটের প্রধান চ্যালেঞ্জ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও সামষ্টিক অর্থনীতিতে ভারসাম্য রক্ষা। প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে গবেষণা প্রতিষ্ঠান সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিং সানেমের আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, এবারের বাজেটে নিম্ন ও মধ্যবিত্তের ওপর করের বোঝা বেড়েছে। আর্থিক খাতে সুশাসন ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে বাজেটের সুফল মিলবে না।
মূল্যস্ফীতির চাপে আছে সাধারণ মানুষ। জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেটে সাড়ে ৬ শতাংশ মূল্যস্ফীতি রাখার লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করে সরকার।
বাজেট পর্যালোচনা করে সানেমের আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, সামষ্টিক অর্থনীতিতে ভারসাম্য আনতে বাজেটে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা নেই। মনিটরি পলিসি, সুদ হার ও রাজস্বনীতির সংস্কার না হলে কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে মূল্যস্ফীতি কমবে না। খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি এবং সুদ হার টানা বাড়তি থাকলে ব্যাংকিং খাত বিপর্যয়ের মুখে পড়বে।
সানেমের নির্বাহী পরিচালক সেলিম রায়হান বলেন, ‘খুব গুরুত্বপূর্ণ সময়গুলোতে দেখা গেছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যগুলোর আমদানিতে কর ধার্য্য ছিল। সেগুলো অ্যাডজাস্ট করার সুযোগ ছিল। এটি আগেই করা যেত। এখন এই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। আগে করা গেলে এরই মধ্যে ভালোই প্রভাব পড়ত।’
ব্যক্তি খাতে চলছে বিনিয়োগের স্থবিরতা। বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমানোর দাবি জানায় সানেম। বলা হয়, ১৫ শতাংশ ট্যাক্সে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দিয়ে দুর্নীতিকে উৎসাহিত করা হয়েছে।
সানেমের গবেষণা পরিচালক সায়মা হক বিদিশা বলেন, ‘ব্যক্তিখাতে বিনিয়োগে কোথায় কোথায় আসলে আমরা প্রণোদনা দেব, উজ্জীবিত করতো। সেই কৌশলটা আগে ঠিক করা। শ্রমঘন শিল্পগুলোকে বিনিয়োগ করা এবং নতুন নতুন শ্রমঘন শিল্পগুলোকে খুঁজে বের করা।’
দারিদ্র্য বিমোচনে সাফল্য দেখালেও দেশে আয় বৈষম্য বাড়ছে। সাধারণ মানুষের ওপর করের বোঝা কমিয়ে সামাজিক নিরাপত্তায় বরাদ্দ বাড়নোর সুপারিশ করে সানেম।