জাহাজ জটে আমদান-রপ্তানি পণ্য পরিবহনের কন্টেইনার ভাড়া দ্বিগুণ

সিঙ্গাপুর ও কলম্বো বন্দরে জাহাজ জটের কারণে আমদান-রপ্তানি পণ্য পরিবহনের কন্টেইনার ভাড়া প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে। আর আমদানি করা কাঁচামাল সময়মতো দেশে না পৌঁছানোয় ব্যাহত হচ্ছে শিল্পের উৎপাদন। মাসখানেক ধরে চলছে এই অবস্থা। উদ্যোক্তারা বলছেন, এ সমস্যা দীর্ঘমেয়াদি হলে গোটা অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দরের গভীরতায় সীমাবদ্ধতার কারণে এক হাজার কিংবা তারও বেশি পরিমাণ কন্টেইনারবাহী বড়জাহাজ বা মাদার ভেসেল চট্টগ্রাম কিংবা মোংলা বন্দরে ভিড়তে পারে না। এ কারণে মাদার ভেসেলের কন্টেইনার সিঙ্গাপুর বা শ্রীলংকার কলম্বো বন্দরে নামিয়ে রাখা হয়। পরে অন্য ছোট জাহাজ বা ফিডার ভেসেলে করে সেইসব পণ্য পাঠানো হয় চট্টগ্রাম বন্দরে। চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে পণ্যের রপ্তানি প্রক্রিয়াও চলে একই প্রক্রিয়ায়।

সম্প্রতি সিঙ্গাপুর ও কলম্বো বন্দরে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র কন্টেইনার ও জাহাজ জট পরিস্থিতি। এই কারণে চট্টগ্রাম থেকে যাওয়া ফিডার জাহাজগুলোকে ওই দুই বন্দরে অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে বাড়তি সাত থেকে আট দিন। তার ওপর লোহিত সাগরে হুতিদের হামলার প্রভাবে ইউরোপ ও আমেরিকা থেকে পণ্য আনতে সাত হাজার কিলোমিটার বেশি ঘুরে আসতে হচ্ছে মাদার ভেসেলকে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ফ্রেইট ফরওয়ার্ড অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি কবির আহমেদ বলেন, জট পরিস্থিতির কারণে কন্টেইনার ভাড়াও বেড়ে হয়েছে দ্বিগুণ।

ফ্রিজ ও রেফ্রিজারেটর আমদানিকারক সমিতির সভাপতি মো. আসাদুজ্জামান বলেন, আমদানি খরচ বেড়ে যাওয়ায় ব্যহত হচ্ছে শিল্পের কাঁচামাল, ইলেক্ট্রনিক্স পণ্যসহ যন্ত্রপাতির সরবরাহ। যার প্রভাবে উৎপাদনসহ নিত্য পণ্যের বাজারে বাড়বে খরচ।

এ বিষয়ে ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) সাবেক সভাপতি আবদুল মাতলুব আহমাদ বলেন, বাণিজ্যের এই সংকট কাটাতে সরকারের তরফ থেকে বাড়াতে হবে কূটনৈতিক তৎপরতা।