১৫ বছরে শ্রমিকরা ন্যায্য হিস্যা পায়নি: দেবপ্রিয় 

দেশের উন্নয়ন হলেও গত ১৫ বছরে শ্রমিকরা তাদের ন্যায্য হিস্যা পায়নি। কর্মক্ষেত্রে তাদের মজুরি এখনো যথেষ্ট নয় বলে জানিয়েছেন শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটির প্রধান ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। সোমবার রাজধানীতে শ্রমিক নেতাদের সাথে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। 

এদিকে বিজিএমইএর দাবি, শ্রমিকদের ১৮ দফা দাবি আদায়ের পরও পোশাক খাতে এখনো অসন্তোষ বিরাজ করছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে উৎপাদন।

দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক অবস্থা তুলে ধরতে গত ২৮ আগস্ট অর্থনীতিবিদ দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে ১২ সদস্যের শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটি গঠন করা হয়। সামষ্টিক অর্থনীতির পাশাপাশি খাতওয়ারি পরিস্থিতিও পর্যালোচনা করছে কমিটি। 

সোমবার প্রায় ১৫টি শ্রমিক সংগঠনের নেতাদের সাথে বৈঠক করে শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটি। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের কমিটির প্রধান দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য জানান, বিগত সময়ে কারখানাগুলোতে কাজের পরিবেশের যেমন উন্নতি হয়নি, তেমনি মজুরিও যথোপযুক্ত হয়নি।

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, ‘বাংলাদেশের শ্রমজীবী জনগণ তাদের ন্যায্য হিস্যা পায় নাই। তারা তাদের ন্যায্য হিস্যা পায় নাই। সেই ন্যায্য হিস্যা না পাওয়ার কারণগুলো চিহ্নিত করতে গিয়ে ওনারাও বলেছেন বাংলাদেশের শ্রমিকদের যে মজুরি সেটা যথোপযুক্ত না।’ 

এই অর্থনীতিবিদ জানান, শ্রমিক কল্যাণে যে-সব উদ্যোগ নেওয়া দরকার ছিল, সেসব নেওয়া হয়নি। এখন শ্রমিকরা তাদের ন্যায্য হিস্যা চায়।

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, ‘শ্রমিকদের অধিকার কার্যকর করার ক্ষেত্রে অনেক ধরনের সমস্যা রয়েছে। আর আমি তো বলেছি, আন্তর্জাতিক আইনের সাথে সামঞ্জস্য বিধান করে বাংলাদেশের শ্রম আইনকে ঠিক না করার কারণে শ্রমিকদের অনেক সময় অধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে।’ 

এদিকে, এক সংবাদ সম্মেলনে বিজিএমইএ জানায়, এখনো কারখানার নিরাপত্তা নিয়ে অসন্তুষ্ট পোশাক খাতের উদ্যোক্তারা।

বিজিএমইএ নেতারা অভিযোগ করেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির সুযোগ নিয়ে কিছু মহল গুজব ছড়াচ্ছে। তদন্ত করে নৈরাজ্য সৃষ্টিকারীদের শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানান তারা।