শুল্কমুক্ত চাল আমদানির ক্ষেত্রে খাদ্য মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদনের শর্ত বাতিল চান আমদানিকারকেরা। এ শর্ত তুলে নিলে চাল আমদানি বাড়বে এবং বাজারদর নিয়ন্ত্রণ সহজ হবে বলে মনে করেন তারা। রোববার চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ স্থলবন্দরের আমদানিকারকেরা ওই শর্ত বাতিলের দাবি জানিয়েছেন ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে। বিষয়টি মন্ত্রণালয়ের নজরে আনার আশ্বাস দিয়েছেন মহাপরিচালক।
আমদানিকারকেরা জানান, ঊর্ধ্বমুখী চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে আমদানিতে শুল্ক পুরোপুরি তুলে নিয়েছে সরকার। বৃহস্পতিবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। কিন্তু প্রজ্ঞাপনে শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে শুল্কমুক্ত চাল আমদানির ক্ষেত্রে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নিতে হবে।
এনবিআর এর ওই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, রেয়াতি হারে চাল আমদানির আগে প্রত্যেক চালানের জন্য খাদ্য মন্ত্রণালয় থেকে মনোনীত অন্যূন যুগ্মসচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তা থেকে লিখিত অনুমোদন নিতে হবে।
আমদানিকারকেরা বলছেন, অনুমোদনের শর্তের কারণে শুল্কমুক্ত চাল আমদানির কোনো সুফল মিলবে না বাজারে। কারণ খাদ্য মন্ত্রণালয় থেকে গুটি কয়েক আমদানিকারক চাল আমদানির সুযোগ নেবেন। তারাই সিন্ডিকেট করে বাজার নিয়ন্ত্রণ করবে। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রথা বাতিল করলে যে কেউ সহজেই চাল আমদানি করতে পারবে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের প্রসিদ্ধ চাল ব্যবসায়ী ও নবাব অটো রাইস মিলের স্বত্বাধিকারী আকবর আলী বলেন, খাদ্য মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদন নিয়ে চাল আমদানি একটি জটিল প্রক্রিয়া। এ প্রক্রিয়া মানতে গেলে আমদানিকারকদের নানান ভোগান্তি পোহাতে হয়। তাই অনেকেই ভোগান্তি এড়াতে চাল আমদানিতে আগ্রহী হবে না। গুটি কয়েক চাল আমদানিকারক, যারা ঢাকায় অবস্থান করেন তারাই অনুমোদনের পর চাল আমদানি করবেন। ফলে চালের দরে তেমন একটা প্রভাব পড়বে বলে মনে হয় না।
চাল আমদানিকারক আকতার হোসেন বলেন, ‘অনুমোদন নেওয়ার শর্ত থাকায় গুটিকয়েক ব্যবসায়ী এ সুবিধা পায়। আমি তো পাই না। ফলে বাজারের চালের দাম বেশিই থাকে। বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে হলে একটা সময়সীমা দিয়ে আমদানি উন্মুক্ত করে দিতে হবে। ওই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যার যখন ইচ্ছা হবে সে তখন আমদানি জন্য ঋণপত্র (এলসি) খুলবেন। তাহলে বাজারদর নিয়ন্ত্রণ করা যাবে।’
সোনামসজিদ স্থলবন্দর আমদানি রপ্তানিকারক গ্রুপের সভাপতি কাজী মো. শাহাবুদ্দীন বলেন, ‘সিন্ডিকেটের কবল থেকে বাজারকে মুক্ত করার জন্য চাল আমদানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধা দেওয়া হয়। কিন্তু খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের শর্ত জুড়ে দিয়ে আরেকটি সিন্ডিকেটের হাতে ফেলে দেওয়া হয় চালের বাজার। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রথা বাতিল করতে হবে।
চাল আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীদের কথা শোনেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোহাম্মদ আলীম আখতার খান। পরে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘এটা হচ্ছে পলিসির প্রশ্ন। আমদানিকারকদের বলেছি যেটা আমাদের করণীয় সেটা আমরা করব। যেটা আমাদের ওপর স্তরে বা সরকারকে জানানো দরকার, সেটা জানাব।’