ডিসেম্বরের মধ্যে ৩ হাজার মেগাওয়াট সৌর প্যানেল স্থাপন অসম্ভব: সিপিডি

জাতীয় রুফটপ সোলার নীতির অধীনে এবছর ডিসেম্বরের মধ্যে ৩০০০ মেগাওয়াট সৌর প্যানেলের লক্ষ্য উচ্চাভিলাষী। সম্ভাব্যতা যাছাই ছাড়া দ্রুত বাস্তবায়নে ত্রুটির আশঙ্কাও রয়েছে।

আজ রোববার ধানমন্ডির সিপিডি কার্যালয়ে আয়োজিত মতবিনিময়ে বেসরকারি উদ্যোক্তারা বলেন, এমন প্রকল্পে ৫ শতাংশ সুদে ঋণ নিশ্চিত করতে হবে। কমাতে হবে শুল্কের চাপ।

জীবাশ্ম জ্বালানি নির্ভর বিদ্যুতে বছরে ৫০ হাজার কোটি টাকার ভর্তুকি গুণতে হচ্ছে সরকারকে। বাড়ছে পরিবেশ দূষণের মাত্রাও। এসব বিবেচনায় স্কুল, কলেজ, হাসপাতালসহ সরকারি বিভিন্ন সংস্থার ভবনের ছাদে সোলার প্যানেল স্থাপনের নীতিমালা হয়েছে। তবে, নীতিমালায় সৌর বিদ্যুৎ কাঠামোর রক্ষণাবেক্ষণ উদ্যোগের ঘাটতি দেখছেন গবেষকরা। পাশাপাশি লক্ষ্য অর্জনে পিডিবি, স্রেডাসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার মধ্যে রয়েছে সমন্বয়ের অভাব।

বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সিপিডি আয়োজিত মতবিনিময়ে বক্তারা বলেন, সংস্থার নিজস্ব তহবিল বা সরকারি অর্থায়নে স্থাপিত সৌরপ্যানেলের রক্ষণাবেক্ষণে আলাদা তহবিল করা জরুরি।

সিপিডির সিনিয়র রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট হেলেনা মাশিয়াত প্রিয়তী বলেন, ‘যদি আমরা সাড়ে ৪ থেকে ৫ পাইলটিং করি তাহলে এটা আমাদের জন্য পর্যাপ্ত ডাটা হবে একটি সিদ্ধান্তে পৌছাতে, আমরা বুঝতে পারব এই জায়গায় এভাবে যাওয়া দরকার।’   

বিপিডিবি পরিচালক প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান বলেন, ‘যেহেতু আমরা টেন্ডার করব, টেন্ডারে ওয়ারেন্টি পিরয়ড থাকবে। ওয়ারেন্টিতে যারা টেন্ডার পাবে তাদেরকেই ট্রেনিংয়ের ব্যাপারে টেন্ডার উল্লেখ থাকবে।’ 

নীতিমালার অধীনে কমপক্ষে দেড় হাজার মেগাওয়াট সৌর প্যানেল স্থাপনে ৮ হাজার কোটি টাকা বেসরকারি বিনিয়োগ দরকার। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের পুনঃঅর্থায়ন তহবিল থেকে কম সুদের দীর্ঘমেয়াদি ঋণ চান উদ্যোক্তারা।    
 
সোলার অ্যান্ড রিনিউয়েবল এনার্জি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোস্তফা আল মাহমুদ বলেন, ‘আমাদের কোনো সদস্য ইটকলে গেলেই বলে যে, এই সাত-আটটা কোম্পানি আছে তাদের হয়ে আসলে লোন পাওয়া যাবে। এই জায়গায়টা বন্ধ হওয়া উচিত।’

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক পরিচালক (টেকসই অর্থায়ন) খোন্দকার মোর্শেদ মিল্লাত বলেন, ‘যৌক্তিক হবে, ব্যাংক বাঁচবে। যে আপনাকে সহায়তা করবে তাকে বাঁচতে দিতে হবে। অন্যথায়, এ সেক্টর চলবে না। ব্যাংকের সুদহার হতে হবে ৫ শতাংশ।’ 

অনুষ্ঠানে মানসম্মত প্যানেল স্থাপন, তৃতীয় পক্ষের অডিট নিশ্চিত করার তাগিদ দেন বিশ্লেষকরা।