জীবন-মান বদলাতে টাঙ্গাইল থেকে রাজধানীতে এসে রিকশা চালানোর কাজ বেছে নিয়েছেন নায়েব আলী। কিন্তু দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতিতে তাঁর চোখে এখন নিরব অনিশ্চয়তা। আয়ের সঙ্গে ব্যয়ের নেই কোনো মিল। সারাদিন রিকশা চালিয়েও ঠিকমতো খাবার জোগাতে হিমশিম খাচ্ছেন।
রাজধানীতে বেশির ভাগ খেটেখাওয়া মানুষের গল্পই এমন। দৈনন্দিন পুষ্টির চাহিদা মেটাতে মাংস তো দুরের কথা, এক বেলা ডিমও খেতে পাছেন না তারা।
মূল্যস্ফীতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাড়ছে না শ্রমিকের মজুরি। পরিসংখ্যান ব্যুরোর সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জুলাইয়ে মজুরি বৃদ্ধির হার ৮ দশমিক ১৯ শতাংশ। বিপরীতে মূল্যস্ফীতি সাড়ে ৮.৫৫ ভাগ। মজুরি বৃদ্ধি মূল্যস্ফীতির চেয়ে এখনো দশমিক ৩৬ শতাংশ কম। খাদ্যপণ্যের দামের সঙ্গে এখনো অনেকটা পার্থক্য রয়েছে উর্পাজনের।
এদিকে, মজুরির সঙ্গে মূল্যস্ফীতির বৈষম্য কমাতে বাজার সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি সরবরাহ ব্যবস্থা বাধামুক্ত করার পরামর্শ অর্থনীতিবিদদের। অর্থনীতিবিদ মুস্তফা কে মুজেরি বলছেন, ‘সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হচ্ছি না। যার ফলে মূল্যস্ফীতি কিন্তু কমানোও সম্ভব হচ্ছে না। একসঙ্গে যদি আমরা এগুলো করি, তাহলে কিন্তু মূল্যস্ফীতি কমানো সম্ভব হবে। এবং তাঁর ফলে এই মূল্যস্ফীতি মজুরির নিচে নেমে আসবে।’
জুলাই মাসে কৃষি ও সেবা উভয় খাতেই আগের মাসের চেয়ে মজুরি বৃদ্ধির হার কমেছে। তবে সামান্য বেড়েছে শিল্প খাতে।