ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে অগ্রিম আদায় করা ভ্যাট অনলাইনে ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া চালু করল জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে ভ্যাট রিফান্ডের আরো ৮টি খাত নিয়ে কোনো স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। যেখানে ব্যবসায়ীদের আটকে থাকা পুঁজির পরিমাণ ভ্যাট রিফান্ডের চেয়েও বেশি হতে পারে বলে জানিয়েছেন বিশ্লেষকেরা।
আমদানি পর্যায়ে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে অগ্রিম আদায় করা মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট নেয় এনবিআর। কিন্তু যৌক্তিক কোনো কারণ ছাড়া গত কয়েক মাস ধরে ভ্যাট রিফান্ড পাচ্ছিলেন না ব্যবসায়ীরা। ব্যবসায়ীদের ভোগান্তি কমাতে এবার অনলাইনে ভ্যাট রিফান্ড দেওয়ার পদ্ধতি চালু করল এনবিআর। এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এটি চালু করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, এখন থেকে অনলাইনে ভ্যাট রিফান্ড আবেদন গ্রহণ, প্রক্রিয়াকরণ এবং সরাসরি করদাতার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করা হবে। আগামী ছয় মাস ধরে এ কার্যক্রম পরীক্ষামূলকভাবে চলবে।
বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, এতে এনবিআরের চলমান ডিজিটালাইজেশন কার্যক্রম আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল।
ভ্যাট কনসালটেন্ট অ্যাসোসিয়েশন সভাপতি হাসানুল ইসলাম টিপু বলেন, ‘অনলাইনে রিফান্ড ভ্যাট প্রদান করার সিদ্ধান্তটি এনবিআর একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ।’
বিপিজিএমইএ সভাপতি সামিম আহমেদ বলেন, ‘রিফান্ড ভ্যাট তো ফেরত দেওয়ার জন্য শর্তে নেওয়া হয়েছে। এটা আটকে গেলে ব্যবসায়ীরা ভোগান্তিতে পড়বে।’
এনবিআরের নির্দেশনা অনুযায়ী, শুধুমাত্র অগ্রিম ভ্যাটে ফেরতের কথা বলা হয়েছে। তবে মূসক আইন অনুযায়ী রিফান্ডের আরো ৮টি খাত থেকে ভ্যাট সমন্বয় করা হয়। বিশ্লেষকদের মতে, এ নিয়ে স্পষ্ট কিছু উল্লেখ করেনি এনবিআর। এতে ব্যবসায়ীদের বিপুল পরিমাণ টাকা আটকে থাকার আশঙ্কা আছে।
ভ্যাট কনসালটেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হাসানুল ইসলাম টিপু বলেন, ‘রিফান্ড কিন্তু শুধু এটি থেকে উদ্ভব হয় না। আমাদের আইন দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে আরও প্রায় ৮টি খাত দ্বারা রিফান্ডের ব্যবস্থা করতে পারে। সেই খাতগুলো কিন্তু এইখানে চিহ্নিত করা হয়নি।’
হিসেব বলছে, গত সেপ্টেম্বর মাসে সারাদেশে ৭১১টি আবেদনের বিপরীতে রিফান্ড আটকে আছে ১ হাজার ৪৬৬ কোটি টাকার বেশি।