আদালতের বাজেয়াপ্তের আদেশ না মেনে প্রকাশ্যে চলছে জুট কর্পোরেশনের রাণীনগর পাট গুদামের সম্পত্তি বিক্রি। আদমদীঘি উপজেলা সাব রেজিস্ট্রারের সহায়তায় দলিল তৈরি করে সম্পত্তি দখলে ব্যস্ত ক্রেতারা।
এদিকে, দুদকের আইনজীবী বলছেন, ক্রোক করা সম্পত্তি হস্তান্তরের সুযোগ নেই।
আদমদীঘির দরিয়াপুর মৌজার ২ দশমিক ৩৮ একর জমিতে রাণীনগর পাট ক্রয় কেন্দ্র। ২০১২ সালে অবকাঠামোসহ এ খাস জমি দরপত্র ছাড়াই মাত্র ২৩ লাখ ৯৫ হাজার টাকায় বিক্রি করেন তৎকালীন পাটমন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী। দুদক মামলা করলে ২০১৯ সালে সম্পত্তি ক্রোকের আদেশ দেন আদালত।
তবে আদালতের আদেশ অমান্য করে সাবেক সাব-রেজিস্ট্রার এস এম কামরুল ইসলাম ৩টি এবং বর্তমান সাব-রেজিস্ট্রার মুদাচ্ছির হাসান ৮টি দলিল রেজিস্ট্রি করেছেন। এরই মধ্যে আসবাবপত্র ও ভবন ভেঙে ইট নিয়ে যাচ্ছেন ক্রেতারা।
স্থানীয় এক ব্যক্তি বলেন, ‘খণ্ড খণ্ড আকারে এখানকার জমি বিক্রি করা হচ্ছে। এই পাঁয়তারা করছে। অনেকে মাঝেমধ্যে আসছে। কেউ বলছে আমি ১০ শতক কিনেছি। অনেকে বলছে আমি ২০ শতক কিনেছি।’
স্থানীয় আরেক ব্যক্তি বলেন, ‘ওই এলাকার যারা রয়েছেন, তারা দলীয় প্রভাব খাটিয়ে সাব–রেজিস্ট্রি অফিসারকে সাথে নিয়ে তারা ওই জায়গাগুলো হরিলুট করে নিচ্ছে।’
একজন দলিল লেখক বলেন, ‘রেজিস্ট্রির জন্য যখন আমরা সাবমিট করি, তখনই সাব–রেজিস্ট্রারের কাছে কোনো অভিযোগ যদি থাকে, সাব–রেজিস্ট্রারই বলতে পারবেন যে, এর উপর অভিযোগ আছে। এটা দলিল করা যাবে না।’
এ নিয়ে ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি হননি সাব-রেজিস্ট্রার মুদাচ্ছির হাসান। ক্রোক করা সম্পত্তি হস্তান্তরের সুযোগ নেই জানিয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বলছেন, এ নিয়ে ব্যবস্থা নেবে দুদক।
বগুড়া আদালতের পিপি ও দুদকের আইনজীবী আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘এই সম্পত্তিটা এখন দুদকের অধীনে আছে। আদালতের এখতিয়ারে আছে। এই সম্পত্তির কোনো ক্ষতি করা এবং কারও আত্মসাৎ করার সুযোগ নাই। এই সম্পত্তি যেই আত্মসাৎ করার চেষ্টা করবে তাদের সকলের বিরুদ্ধেই আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
দরপত্র ছাড়াই পাটকেন্দ্রের জমি ও অবকাঠামো বিক্রি করায় সরকারের অন্তত ৪০ লাখ ৬৯ হাজার টাকা ক্ষতির কথা জানিয়েছে দুদক।