কর্ণফুলী টানেলে কম যান চলাচল ও লোকসান, বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা

প্রত্যাশার চেয়ে অনেক কম গাড়ি চলে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী টানেলে। রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়ও অনেক। আয়ের চেয়ে তিনগুণ বেশি ব্যয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যথাযথ পরিকল্পনা না করে এ টানেল করায় এই প্রকল্পে প্রতিদিনই লোকসানের বোঝা বাড়াচ্ছে। যদিও যান চলাচল বাড়াতে নানা উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। তাতেও আছে দীর্ঘমেয়াদে বিশাল খরচ আর স্বল্প মেয়াদে ঝুঁকি।

কর্ণফুলী টানেলে আনুষ্ঠানিক যান চলাচল শুরু হয় ২০২৩ সালের ২৯ অক্টোবর। এ টানেল দিয়ে প্রতিদিন গড়ে যান চলাচলের কথা ছিল ১৯ হাজার ৬৬৯টি। কিন্তু গড়ে চলছে চার হাজারের মতো যান।

সেতু বিভাগের সচিব মোহাম্মদ আবদুর রউফ বলেন, টানেলের রক্ষণাবেক্ষণ খরচে গড়ে প্রতিদিন ব্যয় হয় প্রায় সাড়ে ৩৫ লাখ টাকা। অথচ আয় হচ্ছে গড়ে ১১ লাখ টাকা। এই প্রেক্ষাপটে টানেলে যান চলাচল বাড়াতে থ্রি-হুইলার এবং মোটরসাইকেল চলাচলের অনুমতি নিয়ে ভাবছে কর্তৃপক্ষ।

নগর পরিকল্পনাবিদ প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার বলেন, টানেল পার হয়ে কক্সবাজার যাতায়াতে আনোয়ারা ওয়াই জংশন হয়ে, আবার পুরোনো সড়কে উঠতে হয় যানবাহনকে। তাতে কক্সবাজারমুখী গাড়ির খুব একটা সুবিধা হয় না। বর্তমানে চলাচলকারী বেশিরভাগ গাড়ি তাই চট্টগ্রাম শহরমুখী। এ ক্ষেত্রে থ্রি-হুইলার ও মোটর সাইকেল চলাচলের অনুমতিতে স্পর্শকাতর এই স্থাপনায় হিতে বিপরীত হতে পারে।

এদিকে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (সওজ চট্টগ্রাম অঞ্চল) তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. জাহেদ হোসেন বলেন, টানেলের আনোয়ারা প্রান্ত থেকে গাছবাড়িয়া পর্যন্ত ২১ কিমি. রাস্তা ৪৬৬ কোটি টাকায় আরও পাঁচ মিটার প্রশস্ত করছে সড়ক বিভাগ। এ ছাড়া জোরারগঞ্জ থেকে টানেল ও মাতারবাড়ী হয়ে কক্সবাজার পর্যন্ত ১৭২ কিলোমিটার মেরিন ড্রাইভ সড়কের সম্ভাব্যতা যাচাই শেষ হয়েছে সম্প্রতি। অর্থায়নের বিষয় নিশ্চিত না হলেও এই প্রকল্পে খরচ ধরা হয়েছে ৩০-৩৫ হাজার কোটি টাকা।
 
৩ দশমিক তিন দুই কিলোমিটার দীর্ঘ কর্ণফুলী টানেল নির্মাণে ব্যয় হয় ১০ হাজার ৬৮৯ কোটি টাকা। চীনা ঋণ এবং বাংলাদেশ সরকারের তহবিলের টাকায় এই টানেল নির্মাণ করে চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না কমিউনিকেশন কনস্ট্রাকশন কোম্পানি।