লাইটারেজ জাহাজের তীব্র সংকটে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙ্গরে পণ্য খালাস করা যাচ্ছে না। এতে বন্দরে তৈরি হয়েছে ভয়াবহ জট। ফলে রোজার মাসে দেশে নিত্য ও ভোগ্য পণ্যের সংকট দেখা দিতে পারে। অভিযোগ উঠেছে, অনেক আমদানিকারক পণ্য খালাস না করে জাহাজগুলোকে ভাসমান গুদাম হিসেবে ব্যবহার করছে। এতে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরির শঙ্কা দেখা দিচ্ছে।
রোজার মাসের আগে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙ্গরে তৈরি হয়েছে পণ্যবাহী বড় জাহাজের জট। চিনি, ডাল, গমসহ বিভিন্ন ভোজ্যতেল ও শিল্প কাঁচামাল নিয়ে অপেক্ষায় আছে ১৩৪টি জাহাজ। এসব জাহাজ থেকে পণ্য খালাসে মিলছে না পর্যাপ্ত লাইটারেজ।
বাংলাদেশ শিপিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক পরিচালক খায়রুল আলম সুজন বলছেন, একটি জাহাজ থেকে পণ্য খালাসে সাত থেকে ১০ দিন সময় লাগে। কিন্তু লাইটারেজ সংকটে এখন সময় লাগছে ২০ থেকে ৩০ দিন। ফলে প্রতিদিন ১০ থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ গুনতে হচ্ছে।
অভিযোগ উঠেছে, অনেক আমদানিকারক পণ্য খালাস না করে জাহাজগুলোকে ভাসমান গুদাম হিসেবে ব্যবহার করছে। এতে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরির শঙ্কা থাকছে।
লাইটারেজ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ডব্লিউটিসিসি বলছে, দেশের ৪১টি ঘাটে ৬৩১টি লাইটার জাহাজ পণ্য নিয়ে আটকা পড়ে আছে।
ইনল্যান্ড ভ্যাসেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব চিটাগংয়ের মুখপাত্র পারভেজ আহমেদ বলেন, দেখা যাচ্ছে বিভিন্ন জায়গায় পণ্যবোঝাই জাহাজগুলো সময়মতো আনলোড করা হচ্ছে না। এতে করে রোজায় বাজারে খাদ্য পণ্য সংকটের শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে সব পক্ষকে নিয়ে বৈঠক করেছে নৌ পরিবহন বিভাগ। তবে পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় কঠোর নজরদারি শুরু করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ সচিব মো. ওমর ফারুক বলেন, ‘মাদার ভেসেলগুলো থেকে পণ্য ছাড়ার পর সর্বোচ্চ তিনদিনের মধ্যে নিজস্ব গন্তব্যে যাওয়ার কথা। ব্যবসায়িক কোনো ফায়দার জন্য কোনো মহল এ কাজটি করতে পারে। তবে এ বিষয়টি আমরা সর্বোচ্চ মনিটরিংয়ে রেখেছি।’