জয়পুরহাট ও ঠাকুরগাঁওয়ে আলুর বাম্পার ফলনেও হাসি নেই কৃষকের মুখে। উৎপাদনের অর্ধেক দামও মিলছে না। ফলে গতবারের মতো এবারও লোকসানের শঙ্কায় চাষীরা। কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, হিমাগারে সংরক্ষণ ও আলুর বিকল্প ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে লোকসান কমানো সম্ভব।
জয়পুরহাটে চলতি মৌসুমে প্রায় ৪০ হাজার হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়েছে। প্রতি বিঘায় খরচ হয়েছে ৩০ থেকে ৩২ হাজার টাকা। উফশি জাতের ফলন হয়েছে বিঘায় ৭০ থেকে ৭৫ মন এবং দেশি গুটি জাতের ৫৫ থেকে ৬০ মন। ফলন ভালো হলেও ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় চাষিদের মুখে হাসি নেই।
বাজারে উফশি আলুর দাম প্রতি মন ২৪০ থেকে ২৫০ টাকা। আর দেশি গুটি আলুর দাম ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা। দেশি আলুতে বিঘাপ্রতি ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা ও উফশি আলুতে ১১ থেকে ১২ হাজার টাকা পর্যন্ত লোকসান গুনছেন চাষিরা।
একজন আলুচাষি বলেন, মনে হয়েছিল গতবারের ক্ষতিটা এবার উঠে যাবে, কিন্তু গতবারের চেয়ে এবার বেশি ক্ষতি হয়েছে।
এদিকে, গত মৌসুমে লোকসানের মুখে এবার ঠাকুরগাঁওয়ে আলু উৎপাদন হয়েছে কম। এরপরও লোকসানের মুখে চাষীরা। তারা জানান,কেজিতে উৎপাদন খরচ ১৫ থেকে ১৬ টাকার বিপরীতে লোকসান ৯ থেকে ১১ টাকা।
একজন চাষি বলেন, আলুর দাম নেই। কী করব আমরা? এখন গরুকে আলু খাওয়াচ্ছে মানুষ।
লোকসানের ভয়ে এবার আলু বেচাকেনা হচ্ছে না ক্ষেতে। হিমাগারে সংরক্ষণেও আগ্রহ নেই কৃষক-ব্যবসায়ীদের। অতিরিক্ত আলুর বিকল্প ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে টানা লোকসানের ঝুঁকি কমবে বলে জানিয়েছেন কৃষি কর্মকর্তারা।
ঠাকুরগাঁওয়ের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মাজেদুল ইসলাম বলেন, আলু বিদেশে পাঠানোর ব্যবস্থাটা করতে হবে, অথবা প্রক্রিয়াজাত করতে হবে। উদ্যোক্তা যারা আছেন, তারা এগিয়ে এলে আলুর ব্যবহার হবে। আলুর ব্যবহার হলেই কৃষক লাভবান হবেন।
ঠাকুরগাঁওয়ে গতবার ৩৫ হাজার হেক্টর জমিতে আলু চাষ হলেও এবার তা কমে ৩০ হাজার হেক্টরে নেমেছে। চলতি মৌসুমে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৯ লাখ টন।