বছরে আড়াই হাজার টন শুঁটকি উৎপাদন, বিপণনে বাধা আড়ৎ সংকট

সুনামগঞ্জে প্রতি বছর উৎপাদন হয় আড়াই হাজার টন মিঠা পানির মাছের শুঁটকি। দেশের বাজার ছাড়িয়ে এখন এসব শুঁটকি ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যেও রপ্তানি হচ্ছে। তবে জেলায় শুঁটকির পাইকারি আড়ৎ না থাকায়, বিক্রির জন্য যেতে হয় কিশোরগঞ্জসহ অন্য জেলায়। পরিবহন ব্যয় ও বিপণনের ঝামেলা কমাতে এলাকায় আড়ৎ স্থাপনের তাগিদ দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

সুনামগঞ্জের অন্তত ৯০টি পল্লীতে উৎপাদন করা হয় পুঁটি, টেংরা, বাইম, শোল, গজারসহ বিভিন্ন মিঠা পানির মাছের শুঁটকি। জেলার বিভিন্ন হাওর, বিল নদী থেকে মাছ আহরণ করেন জেলেরা। কয়েক ধাপে প্রক্রিয়াজাত করে তৈরি হয় সুস্বাদু শুঁটকি।

ব্যবসায়ীরা জানান, জেলায় প্রতি বছর উৎপাদন হয় দুই থেকে আড়াই হাজার টন শুঁটকি। তবে স্থানীয় কোনো পাইকারি আড়ৎ না থাকায় কিশোরগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলার বাজারে নিয়ে যেতে হয়। এতে পরিবহন ব্যয় ও বিপণনে ঝামেলা বাড়ে। এ ছাড়া অনেক সময় দাম দিয়ে মাছ কিনে তা আশানুরূপ দামে বেচা যায় না। 

মৎস্য অফিস বলছে, জেলায় প্রতি বছর ৪০০ থেকে ৫০০ কোটি টাকার শুঁটকির উৎপাদন হয়। গত বছরের তুলনায় এ বছর শুটকির উৎপাদন বাড়ার আশা মৎস্য কর্মকর্তার।

সুনামগঞ্জ জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ড. আল মিনান নূর বলেন, জেলার ১১ উপজেলায় শুঁটকি উৎপাদনে যুক্ত আছেন জেলে, ব্যবসায়ীসহ কয়েক হাজার মানুষ। সুনামগঞ্জে বছরে দুই থেকে আড়াই হাজার মেট্রিক টন শুঁটকি উৎপাদন হয়ে থাকে যা মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপে রপ্তানি হয়। এই হাতে তৈরি শুঁটকি তাদের অত্যন্ত পছন্দের একটি খাবার।