পর্যাপ্ত আমদানি-মজুত থাকলেও পাম্পে দীর্ঘ লাইন, জ্বালানি নিয়ে ধোঁয়াশা

১৭ এপ্রিল থেকে পাঁচ দিনে জ্বালানি এসেছে ৩ লাখ টনের বেশি। এরই মধ্যে খালাসও হয়েছে বড় অংশ। এসব চালানের সবই ডিজেল আর অকটেন। এর বাইরেও অকটেনের যথেষ্ট মজুত আছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশেনের (বিপিসি) কাছে। তবুও পাম্পে লাইন কমছে না। এ জন্য অবৈধ মজুতকে দুষছেন বিশেষজ্ঞরা। এটি ঠেকাতে জোর পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকালে মালেশিয়া থেকে আসা ক্যাপ বন্নি জাহাজ থেকে ৩৩ হাজার ৩৯৮ টন ডিজেল খালাস করা হয়। একই দিনে দুপুরে মালেশিয়া থেকে আসা আরেক জাহাজ এমটি ওয়াকটি থেকে খালাস হয় ৩৫ হাজার ৩৪৫ টন পরিশোধিত ডিজেল। এ ছাড়া সাগরে দুদিন ভাসার পর মালয়েশিয়া থেকে এমভি নেভ সাইলো করে আসা ২৭ হাজার ৩৬৪ টন অকটেন এমটি সেন্ট্রাল স্টারের মাধ্যমে খালাস শুরু হয়। শিপিং এজেন্সি জানায়, গত ১৭ এপ্রিল থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত তিন লাখ টনের বেশি জ্বালানি এসেছে বন্দরে।

মঙ্গলবার পণ্য খালাস শুরুর আগে ব্রাইট শিপিং এজেন্সির প্রতিনিধি মো. তৈয়ব বলেন, ‘এসটিএস অপারেশনের মাধ্যমে এখন কার্গো নিয়ে এসে বার্থিং হচ্ছে। একটু পরই জাহাজের পণ্য খালাস হবে। এটি ৭৩৬৩ মেট্রিক টন কার্গো নিয়ে এসেছে। এতে মোটর গ্যাসোলিন অর্থাৎ অকটেন রয়েছে।’

এক হিসাবে দেখা গেছে, গত বছর এপ্রিলের চেয়ে এবার অকটেনের বিক্রি কম। ২০২৫ সালের মধ্য এপ্রিল পর্যন্ত দিনে গড় বিক্রি ছিল ১ হাজার ১৮৫ টন। এ বছর সেটা ১১৩৪ টন। এ ছাড়া ২০ এপ্রিল পর্যন্ত অকটেনের মজুত ছিল সাড়ে ২৭ হাজার টনের বেশি। তার পরও পাম্পে লম্বা লাইনের ভোগান্তি কমেনি।

লাইনে দাঁড়ানো ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষেরও রয়েছে নানা ধরনের অভিযোগ। অনেকেই লাইনে ঠিকমতো না দাঁড়িয়েই তেল নিচ্ছে। অনেক সময় তেলের গাড়ির লাইনে প্রবেশ করছে ডিজেলের গাড়ি। অনেকেরই রয়েছে লম্বা লাইনে দাঁড়ানোর পর পর্যাপ্ত তেল না পাওয়ার অভিযোগ।

তেলের জন্য লম্বা লাইনে অপেক্ষমাণ সাধারণ মানুষ। ছবি: ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশন

বিপিসি বলছে, সংকট হওয়ার কথা নয়। মাঠপর্যায়ে সরবরাহ কেন স্বাভাবিক হচ্ছে না-সে প্রশ্নের উত্তর নেই তাঁদের কাছে।

বিপিসির উপ-ব্যবস্থাপক মো. আশিক শাহরিয়ার বলেন, ‘আমি নিজেও আসলে বলতে পারছি না মাঠ পর্যায়ে সংকট কেন হচ্ছে। প্যানিকের কারণে এ সমস্যা হতে পারে। তবে এটি আস্তে আস্তে কমে যাওয়ার কথা। ঢাকায় এ সমস্যা অনেকটা কমে গেছে।’

এমন বাস্তবতায়, বিশেষজ্ঞরা সংকট নিরসনে সরকারকে মজুত বাড়ানোর পরামর্শ দিয়ে মজুতদার ঠেকানোর ওপর জোর দিচ্ছেন।

ইস্টার্ন রিফাইনারির সাবেক জিএম মানজারে খুরশীদ বলেন, ‘তেল ধারণক্ষমতা বাড়ানোর জন্য আমাদের ল্যান্ড রয়েছে। সরকার উদ্যোগ নিলে আগামী কয়েক মাসের মধ্যে একটা ব্যবস্থা সম্ভব। এসপিএম প্রকল্পের মাধ্যমে মহেশখালীতে একটি বড় তৈলাগার রয়েছে। সেখানকার ট্যাংকগুলো অলমোস্ট খালি রয়েছে। এগুলো কাজে লাগানো যেতে পারে।’

আরও পড়ুন:

‘বাংলার জয়যাত্রা’ কেন হরমুজ পার হতে পারছে না?

চট্টগ্রামে খালাস হচ্ছে আমদানির ১ লাখ টন জ্বালানি

তেল সংকট কাটাতে আমেরিকার সঙ্গে করা চুক্তি পর্যালোচনার তাগিদ