মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের জেরে বিশ্বের ইতিহাসে ভয়াবহ জ্বালানি সংকট চলছে। তার পরও বাংলাদেশে প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় কম দামে তেল বিক্রি হচ্ছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) বলছে, জনগণের ক্রয়ক্ষমতা বিবেচনায় জ্বালানি সরবরাহে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। বিশ্ববাজারে দাম কমলে দেশেও দ্রুত সমন্বয় হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
ইরানে ইসরায়েল-আমেরিকার হামলার জেরে প্রায় দুই মাস ধরে হরমুজ প্রণালি বন্ধ। যা সারা বিশ্বে জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম জলপথ। এ পথেই মধ্যপ্রাচ্য থেকে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলো বেশিরভাগ জ্বালানি আমদানি করে। কিন্তু যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সরবরাহ ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়েছে। এ সময় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যায় ৫০ ভাগের বেশি। পরিশোধিত তেলের দাম বাড়ে আরও বেশি।
বিশ্ববাজার থেকে বাড়তি দামে তেল কিনেও সরকার দেশের বাজারে দেড় মাসের বেশি সময় দর অপরিবর্তিত রাখে। এ সময় ভর্তুকি গুনেছে দিনে গড়ে ৮৩ কোটি টাকা। সবশেষ ১৯ এপ্রিল ডিজেলে ১৫ টাকা, পেট্রোলে ১৯ এবং অক্টেনের লিটারে ২০ টাকা বাড়ায় বিপিসি।
বিপিসি চেয়ারম্যান রেজানুর রহমান বলেন, ‘ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ নির্দেশনা দিয়েছেন, তেল কিনতে যেন জনগণের ওপর অতিরিক্ত চাপ না পড়ে। এ বিবেচনায় বর্তমান দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে ডায়নামিক প্রাইসের কথা যদি চিন্তা করা হয় বা অন্যান্য দেশে ডিজেল, পেট্রোল ও অকটেনের দামের কথা যদি ধরা হয় কিংবা ইন্টারন্যালনাল মার্কেটে এগুলোর প্রাইস যদি দেখা হয় সে প্রেক্ষাপটে দেশে ওই পরিমাণ দাম বাড়ানো হয়নি।’
দেশের বাজারে বিক্রি হওয়া জ্বালানি তেলের ৭৫ ভাগই ডিজেল। এশিয়ার বিভিন্ন দেশের তুলনায় বাংলাদেশে সবচেয়ে কম দামে ডিজেল বিক্রি হচ্ছে। ভুটান ও ভারতে প্রতি লিটার ১৩০ টাকা, নেপালে ১৯০ টাকা, পাকিস্তান ও থাইল্যান্ডে ডিজেলের লিটার ১৫০ টাকার বেশি।
রেজানুর রহমান আরও বলেন, ‘আমরা মনে-প্রাণে চাচ্ছি, যুদ্ধ পরিস্থিতি শেষ হয়ে যাক। এটা পুরো ওয়ার্ল্ডই চাচ্ছে যে, নেগোসিয়েশন মিটিংটা হোক। বিশ্বে একটা স্থিতিশীলতা আসুক। এতে করে আমাদেরকে আর বাড়তি দামের দিকে যেতে হবে না। যদি আমরা মার্কেট থেকে রিজনেবল প্রাইসে কিনতে পারি, আমরা সঙ্গে সঙ্গে এটি কমানোর ব্যাপারে উদ্যোগ নেব।’
বিপিসি জানায়, চলতি মাসে মোট ৪ লাখ ৮০ হাজার টন ডিজেল আমদানি হবে। এখন পর্যন্ত এসেছে প্রায় আড়াই লাখ টন। সমুদ্র পথে আছে বেশ কয়েকটি জাহাজ। এ ছাড়া ২৭ হাজার টন অকটেন এসেছে। বাড়তি চাহিদা মাথায় রেখে আমদানি হচ্ছে আরও ২৫ হাজার টন।
আরও পড়ুন:
জ্বালানি সংকটের সঙ্গে লোডশেডিং, চাপে রপ্তানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো
দেশের ক্রয়াদেশ ‘চলে যাচ্ছে’ ভারতে
পর্যাপ্ত আমদানি-মজুত থাকলেও পাম্পে দীর্ঘ লাইন, জ্বালানি নিয়ে ধোঁয়াশা