এক দশকে ১৯৪ কোটি টাকার প্রকল্প নিয়েও সুদিন ফেরেনি রাজশাহীর সিল্ক শিল্পে। এতে আমদানিনির্ভর হয়ে পড়েছে ঐতিহ্যবাহী এই শিল্প। এমনকি সুতার অভাবে বন্ধ হয়ে গেছে অনেক কারখানা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সঠিক পরিকল্পনা নেওয়া হলে সিল্ককে আবারও আগের রূপে ফিরিয়ে আনা সম্ভব।
সিল্কের সুতা উৎপাদন আর শাড়ি তৈরিতে দক্ষতার জন্য এক সময় রাজশাহীর নামই হয়ে যায় সিল্কসিটি। জিআই স্বীকৃতি মিললেও, দিনে দিনে কমছে এই সুনাম।
বছরে দেশে রেশম সুতার চাহিদা প্রায় ৩৫০ টন। বিপরীতে রেশম বোর্ড উৎপাদন করে ৪১ টন, যা চাহিদার ১১ শতাংশ। এই উৎপাদন বাড়াতে ২০০৮ সাল থেকে ১৯৪ কোটি টাকার প্রকল্প নেয়া হয়। এর মধ্যে খরচ হয়ে গেছে ১৪৪ কোটি টাকা। তবে মেলেনি কাঙ্ক্ষিত সুফল।
এই সময়ে রেশম উৎপাদন না বেড়ে উল্টো কমেছে। ফলে ক্রমেই আমদানি নির্ভর হয়ে পড়েছে শিল্পটি। এতে বাড়ছে উৎপাদন ব্যয়। ব্যবসায়ীরা বলছেন, কাঁচামালের অভাবে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে অনেক কারখানা।
এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘আমরা বিদেশ থেকে সুতা আমদানি করি। আমাদের দেশে ভালো মানের সুতা কম হয়। ভালো মানের সুতা উৎপাদনে দরকার উন্নত প্রশিক্ষণ।’
রেশম বোর্ডের মহাপরিচালকের দাবি, এই শিল্প টিকিয়ে রাখতে একের পর এক প্রকল্প থাকতেই হবে। এদিকে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী জানিয়েছেন, তারা নতুন উদ্যমে কাজ শুরু করতে চান।
বাংলাদেশ রেশম উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক তৌফিক আল মাহমুদ বলেন, ‘আমাদের প্রকল্পগুলোই এ শিল্পকে বাঁচিয়ে রেখেছে। প্রকল্প না থাকলে এ শিল্প হারিয়ে যাবে। দেশে যে ১১৪টি কীটের জাত আছে এটি রাষ্ট্রীয় সম্পদ।
বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম বলেন, ‘এ শিল্প বাঁচিয়ে রাখতে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন সার্বিকভাবে আলোচনা করে যে কোনোভাবে কারখানাগুলো চালু করব।’
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আধুনিক প্রযুক্তি, চাষিদের প্রণোদনা এবং কার্যকর নীতিমালা ছাড়া এ খাতকে টেকসই করা সম্ভব নয়।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) উদ্ভিববিজ্ঞান বিভাগের ড. এম. মুনজুর হোসেন বলেন, ‘প্রয়োজনীয় সকল কমপোনেন্টগুলো রেডি করে আমরা যদি একটা সেট-আপ করতে পারি, তাহলে বাংলাদেশে এই আবহাওয়ায় ৩০ সাইকেল পর্যন্ত সিল্ক তৈরি করতে পারব।’
রাজশাহীতে ৭৬টি সিল্ক কারখানার মধ্যে গেল এক দশকে বন্ধ হয়ে গেছে ৭০টি।