জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) জটিল কর কাঠামোর কারণে দেশে রাজস্ব আয় বাড়ছে না। সম্পূরক শুল্ক এবং ভ্যাট কাঠামো বৈষম্যমূলক হওয়ায় এর সংস্কার জরুরি বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। রোববার রাজধানীতে গবেষণা সংস্থা পিআরআই আয়োজিত সেমিনারে এসব কথা বলেন তারা।
দীর্ঘদিন ধরে করের নিম্ন হার এবং কাঠামোগত জটিলতা অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণের প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিলাসী বা অপ্রয়োজনীয় পণ্যের ক্ষেত্রে সম্পূরক শুল্কের হার ৫ শতাংশ থেকে থেকে ২৫০ শতাংশ পর্যন্ত রয়েছে। এর উদ্দেশ্য রাজস্ব বাড়ানো এবং বিলাসী ও অস্বাস্থ্যকর পণ্যের ব্যবহার কমানো। তবে কর কাঠামোর এই উচ্চ হার অনেক ক্ষেত্রে রাজস্ব বাড়ানোর বদলে হিতে বিপরীত হচ্ছে।
আলোচনায়, সব ধরনের কোমল পানীয়তে একটি অভিন্ন ১৫ শতাংশ কর ঠিক করার দাবি জানানো হয়। পিআরআই গবেষণা পরিচালক ড. বজলুল হক খন্দকার বলেন, ‘চিনি যত বেশি, কর তত বেশি এমন কাঠামো স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং রাজস্ব দুই দিকেই ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।’
বাজেটে কেবল লক্ষ্যমাত্রা না বাড়িয়ে, রাজস্ব আদায়ে গতি আনতে এনবিআরে আমূল সংস্কারের তাগিদ দেন বক্তারা। এনবিআরের সাবেক সদস্য ফরিদ উদ্দিন, ‘সম্পূরক শুল্কের নানা জটিলতার কারণে একদিকে যেমন রাজস্ব আদায় বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, অন্যদিকে ব্যবসার ওপর করের বোঝা চেপে উৎপাদন ব্যয় বাড়িয়ে দিচ্ছে।’
পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খান বলেন, ‘রাজস্ব আদায় কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে নিতে হলে কেবল লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ নয়, বরং প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদী নীতিগত সিদ্ধান্ত। বিদ্যমান জটিলতা নিরসন এবং করের আওতা বাড়াতে কাঠামোগত সংস্কারের বিকল্প নেই।’
গবেষকদের মতে, কর কাঠামোর সংস্কার একদিকে যেমন রাজস্ব বাড়াবে, তেমনি ভোক্তাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষাতেও ভূমিকা রাখবে।