উচ্চমূল্যের জ্বালানি আমদানিতে বিদ্যুৎ উৎপাদনের খরচ বেড়েছে। তাই বড় অংকের ভর্তুকির চাপ কমাতে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনে (বিইআরসি) বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর সুপারিশ পাঠিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ।
প্রস্তাবনা অনুযায়ী, নিম্ন আয়ের গ্রাহকের ওপর কোনো রকম চাপ না দিয়ে বিদ্যুতের দাম বাড়তে পারে। প্রতি ইউনিটে সর্বোচ্চ দেড় টাকা পর্যন্ত বাড়িয়ে, নতুন দর জুন থেকেই কার্যকর করতে চায় সরকার।
২০২০ থেকে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশে ৪ দফায় ভোক্তা পর্যায়ে মোট সাড়ে ২৫ ভাগ বিদ্যুতের দাম বাড়ে। তারপর গত দুই বছরের বেশি সময় দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। কিন্তু গত অর্থবছরের মত চলতি বছরও বিদ্যুৎ খাতে বিশাল অংকের ভর্তুকি গুণতে হিমশিম খাচ্ছে সরকার। মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের জেরে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় আরো বেড়েছে বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচ।
ভর্তুকির চাপ কমাতে অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে-বাণিজ্য ও জ্বালানি মন্ত্রনালয়ের উচ্চপর্যায়ের কমিটি বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর সুপারিশ করেছে। যা পাঠানো হয়েছে বিইআরসি-তে।
বিদ্যুৎ বিভাগের প্রস্তাব, মাসে ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত ব্যবহারকারী গ্রাহকের জন্য দাম বাড়বে না। মোট গ্রাহকের ৬৩ ভাগই এমন ব্যবহারকারি শ্রেণির। তবে মধ্যবিত্ত, উচ্চবিত্ত এবং শিল্প-বাণিজ্যিক বিদ্যুতে প্রতি ইউনিটে ৭০ পয়সা থেকে দেড় টাকা পর্যন্ত দাম বাড়ানোর সুপারিশ রয়েছে।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, করোনা মহামারি থেকে শুরু করে মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ, বারবার নানা সংকটের অভিজ্ঞতা থেকেও নীতিনির্ধারকরা শিক্ষা নেয়নি। দেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎখাতে খরচের চাপ কমাতে দূরদর্শী নীতির অভাব দেখছেন তারা।
সরকারের প্রস্তাবিত হারে বিদ্যুতের দাম বাড়লে, বছরে কমপক্ষে ১০ হাজার কোটি টাকার ভর্তুকির চাহিদা কমতে পারে।