বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দ্রুত সরবরাহ (কুইক রেন্টাল) আইনটি সংসদে রহিত করে চূড়ান্তভাবে বাতিল করেছে সরকার। তবে সে আইনে করা শতাধিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ও জ্বালানি অবকাঠামোর বৈধতা বহাল রাখা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের মতো বর্তমান সরকারও এ খাতের লুটপাটকে দায়মুক্তি দিল। তবে বেসরকারি বিনিয়োগকারীরা বলছেন, সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সঠিক সিদ্ধান্তই নিয়েছে সরকার।
২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দ্রুত সরবরাহ আইন করে। দেড় দশকে আইনটির আওতায় শতাধিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের অনুমোদন দেয়া হয়।
১০ এপ্রিল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে পাস হয় ‘বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দ্রুত সরবরাহ আইন ২০১০ রহিতকরণ আইন।’ এর মাধ্যমে দায়মুক্তি আইনটি চূড়ান্তভাবে বাতিল হয়। তবে ২০১০ সালের আইনের অধীনে চলমান প্রকল্পগুলো অব্যাহত থাকবে, বৈধ বলে গণ্য হবে বিশেষ আইনে করা সব বিদ্যুৎচুক্তি।
বিতর্কিত আইনের চুক্তি ও প্রকল্পগুলোকে বৈধতা দেওয়ায় বিষয়ে আপত্তি তুলেছেন বিশেষজ্ঞরা।
দেশে বিদ্যুৎ সরবরাহে বেসরকারি খাতে নির্ভরতা প্রায় ৫০ ভাগ। এখাতে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ কয়েক বিলিয়ন ডলারের। এসব প্রতিষ্ঠান মনে করে, বিদ্যমান চুক্তিগুলো অব্যাহত রাখা সরকারের সুচিন্তিত সিদ্ধান্ত।
বিদ্যুৎখাতে কয়েকবছর ধরেই বাড়ছে ক্যাপাসিটি চার্জের চাপ। এমন অবস্থায় বিশেষ আইনে করা চুক্তিগুলো জনস্বার্থে পর্যালোচনার ক্ষমতা রয়েছে সরকারের। চুক্তি মেনে পদক্ষেপ নিলে তাতে আপত্তি নেই বিনিয়োগকারীদের।