আগের মন্দাগুলোর সঙ্গে মিল, অর্থনীতিতে ঘোর বিপদের সংকেত?

বিশ্ব অর্থনীতিতে বিপদ সংকেত দেখতে পাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর অর্থনৈতিক ধসের আগে পরিস্থিতি যেমন ছিল, তার সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির মিল দেখছেন তাঁরা। তাঁদের আশঙ্কা, বিশ্বব্যাপী এখন বড় ধরনের সংকটের মুখে ব্যাংকিং খাত। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল বলছে, সংকট সমাধানে নীতি নির্ধারণেরও সুযোগ কম।

ইরান-ইউক্রেনের মতো দেশগুলোকে ঘিরে সামরিক সংঘাত আর জ্বালানি সংকটের ফলে ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটের সম্মুখীন সারা বিশ্ব। বিগত অর্থনৈতিক মন্দাগুলোর সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির মিল দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। পরিস্থিতি মোকাবিলায় হিমশিম খাচ্ছেন নীতি নির্ধারকেরা।

২০০৭ সালে মার্কিন মর্টগেজের বিনিয়োগ ব্যর্থতায় ভয়াবহ ঋণ সংকট সৃষ্টি হয়। তহবিল বাঁচাতে সীমিত করা হয় বিনিয়োগকারীর টাকা তোলার ক্ষমতা। ফেরত না পাওয়ার ভয়ে ঋণ দেয়া বন্ধ করে দেয় ব্যাংকগুলো। বর্তমানেও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর জটিলতা একই সংকট সৃষ্টি করেছে। এছাড়াও চীনের ক্রমবর্ধমান চাহিদা ও মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার ফলে সেসময় অপরিশোধিত তেলের দাম দাঁড়ায় ব্যারেল প্রতি সর্বোচ্চ ১৪৭ ডলারে। বর্তমান বিশ্বও একই পরিস্থিতির মুখোমুখি।

২০০০ সালে ইন্টারনেটভিত্তিক স্টার্টআপে ব্যাপক বিনিয়োগ যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক মন্দাকে প্রশমিত করে। একইভাবে এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিকাশে ট্রিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে স্টক মার্কেটের শীর্ষ প্রতিষ্ঠানগুলো। লক্ষ লক্ষ মানুষ তাদের সঞ্চয়ের বড় অংশ এসব শেয়ারে ব্যয় করছেন। যা পেনশন তহবিলসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে ঝুঁকিতে ফেলছে।

১৯৭৩ সালে অর্থনৈতিক ধসের আগে মার্কিন শেয়ার বাজারে সর্বোচ্চ দরপতন ঘটে। বর্তমানে শেয়ার বাজারগুলো সেই পথেই রয়েছে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন, যুক্তরাজ্যের শেয়ার বাজারে যেকোনো সময় পতন ঘটবে।

এমন পরিস্থিতিতে নীতি নির্ধারকরা সংকট মোকাবিলায় কতটা সক্ষম, তা দেখার অপেক্ষায় বিশ্ববাসী। বিগত বছরগুলোর তুলনায় আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বেশ দুর্বল। ইরান ও ইউক্রেন যুদ্ধ, চীন-যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য সংকট ও সরকারগুলোর স্বার্থান্বেষী নীতি আলোচনার পথ বন্ধ করে দিচ্ছে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।