মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে বাজেটে নিত্যপণ্য ও কৃষিপণ্য খাতে থাকছে সুখবর

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আগামী অর্থবছরের বাজেটে নিত্যপ্রয়োজনীয় ও কৃষি পণ্য খাতে থাকছে সুখবর। কিছু কৃষি ও ভোগ্যপণ্যের ওপর করছাড় দিতে পারে সরকার। ধান, চাল, গম, আলু, গবাদিপশু, বীজসহ প্রায় ৬০ টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর উৎসে কর কমানো হতে পারে। এতে দ্রব্যমূল্য কমে, সরবরাহ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হতে পারে বলে মনে করছে সরকার।

দীর্ঘদিন নিত্যপণ্যের উচ্চ মূল্যের সঙ্গে জীবন যাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় হিমশিম খাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য মতে, দেশে মূল্যস্ফীতি বিগত এক বছর ৮ থেকে ৯ শতাংশের মধ্যে ওঠানামা করলেও, ২০২৬ এর মে মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৪২ শতাংশে। আর খাদ্য মূল্যস্ফীতি ছাড়িয়েছে ৯ শতাংশ। 

এমন পরিস্থিতি থেকে সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দিতে এবং পণ্যের সরবরাহ ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে উৎসে কর কমানোর প্রস্তাব আসতে পারে আগামী বাজেটে। ৬০ টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর উৎসে করের হারে বড় পরিবর্তন নিয়ে আসতে যাচ্ছে সরকার।

প্রস্তাব অনুযায়ী, চাল, গম, আলু, গবাদিপশু, হাঁস-মুরগি, মাছ, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, লবণ, চিনি, ভোজ্যতেল, বীজসহ ৬০ টি নিত্যপণ্যের ওপর উৎসে করের হার কমতে পারে। বর্তমানে পণ্যভেদে ৫, ২, ও ১ থেকে কমিয়ে তা ০ দশমিক ৫ শতাংশ করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

নীতিনির্ধারকেরা বলছেন, মূল্যস্ফীতি হ্রাস এবং সরবরাহ ব্যবস্থা শক্তিশালী হবে এর মাধ্যমে। এতে জনগণ আরো স্বস্তি পাবে বলে আশা তাদের।

প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, মূল্যস্ফীতির কষাঘাতে জনগণের যে দুর্ভোগ; যে কারণে গত কয়েক বছরে অনেক মানুষ দারিদ্রসীমার নিচে চলে গেছে। এ জন্য বর্তমান সরকার দায়িত্বে এসেই এমন প্রতিটি পদক্ষেপ নিয়েছে, যেগুলো জনআকাঙক্ষার প্রতিফলন। 

ভোজ্যতেলের সরবরাহ বাড়াতে, দেশীয় তৈলবীজ ব্যবহার করে তেল উৎপাদন ব্যবসায় ১০ বছরের জন্য কর প্রত্যাহার করতে পারে সরকার। এর মাধ্যমে কৃষি খাতে বিনিয়োগ ও দেশে ভোজ্যতেলের উৎপাদন বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।