ফ্যামিলি কার্ডের জন্য আগামী অর্থবছরে ১৪ হাজার কোটি টাকারও বেশি বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এবার ৪১ লাখ পরিবার কার্ডের আওতায় আসবে। অর্থমন্ত্রী জানান, পর্যায়ক্রমে ৪ কোটি ১০ লাখ পরিবার এই সুবিধা পাবে। আর সমাজকল্যাণমন্ত্রী জানান, শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এই কার্যক্রমকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখা হবে। প্রতি ছয় মাসে চালানো হবে নিরপেক্ষ নিরীক্ষা।
দেশে দারিদ্র্যের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনতে এক মেগা পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। চূড়ান্ত হয়েছে 'ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়ন নীতিমালা ২০২৬'-এর খসড়া। নতুন অর্থবছরে এই সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১৪ হাজার কোটি টাকারও বেশি।
বিশাল এই কর্মযজ্ঞে শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নেওয়া হয়েছে এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ। এবার ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে স্থানীয় বা কেন্দ্রীয় কোনো পর্যায়ের রাজনৈতিক ব্যক্তি জড়িত থাকতে পারবেন না। পুরো কার্যক্রমটি মাঠপর্যায়ে দেখভাল ও বাস্তবায়ন করবেন সরকারি কর্মকর্তারা।
অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ভাতা পেয়ে উপকারভোগীরা স্বাস্থ্য ও শিক্ষা ক্ষেত্রে কতটুকু এগিয়ে যাচ্ছেন, তা খতিয়ে দেখা হবে। রাজস্বের বড় একটি অংশ এই খাতে ব্যয় হবে, প্রতিবছরই বরাদ্দ দেওয়া হবে, ফলে সেই টাকা দিয়ে উপকারভোগীদের জীবনমানের উন্নতি হচ্ছে কি না, তা যাচাই করতে প্রভাব মূল্যায়ন করা হবে।
প্রান্তিক নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে এই কার্ডের টাকা সরাসরি চলে যাবে পরিবারের নারী সদস্যদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে। আর এই লেনদেন প্রক্রিয়া নিরাপদ করতে ব্যবহার করা হবে সোনালী ব্যাংকের 'টাকা পে' অ্যাপ।
সমাজকল্যাণমন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন জানান, চার বছরে ৪ কোটি ১০ লাখ পরিবারের কাছে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে। আগামী অর্থবছরে পাবে ৪১ লাখ পরিবার। ভাতা দেওয়ার কার্যক্রম প্রথম দিন থেকেই জাতীয় পরিচয়পত্রভিত্তিক (এনআইডি) করা হয়েছে। কেউ অন্য কোনো সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় থাকলে এ কার্ড পাবেন না। সেটি কেউ গোপন করলেও অর্থ মন্ত্রণালয় ধরে ফেলবে।
কার্যক্রম চালুর ছয় মাস পর পুরো প্রক্রিয়াটি আবারও নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা করা হবে বলে জানিয়েছেন সরকারের মন্ত্রীরা।