‘বাজেটে নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে কম গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে’

সরকারের জ্বালানি নীতি এখনও বৈষম্যমূলক। নবায়নযোগ্য জ্বালানির চেয়ে জীবাশ্ম জ্বালানিকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বৈষম্য দূর করতে বাজেটে সবুজ জ্বালানি নীতি নেওয়ার তাগিদ সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ-সিপিডির। রাজধানীর ধানমন্ডিতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বরাদ্দ ও চ্যালেঞ্জ প্রসঙ্গে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলে সিপিডি। 

বিশ্বজুড়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনে নবায়নযোগ্য জ্বালানির অবদান ৩০ শতাংশের বেশি। তবে, বাংলাদেশে সবুজ জ্বালানির অবদান মাত্র ২ দশমিক ৩ শতাংশ। 

নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে ২০ শতাংশ বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য সরকারের। তবে, বাজেটে এর প্রতিফলন নেই বলে মনে করছে সিপিডি। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের মাত্র ২ শতাংশ বরাদ্দ প্রস্তাব হয়েছে এ খাতে। 

সিপিডির গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন,‘সরকারের প্রশাসন যন্ত্র এবং জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের ভেতরে এখনো জীবাশ্ব জ্বালানি কেন্দ্রিক এক ধরনের মন–মানসিকতা রয়েছে, সেটা কিন্তু এই রাজস্ব কাঠামো থেকে বেশ কিছুটা হলেও ইঙ্গিত পাওয়া যায়। হয়তো বাজেট বরাদ্দের ক্ষেত্রে বড় উচ্ছ্বাস নেই, একইসঙ্গে নবায়নযোগ জ্বালানির জন্য কিন্তু বাড়তি বরাদ্দ আমরা সেখানে দেখিনি’ 

সিপিডি বলছে, বাজেটে এলএনজি, কয়লা ও জ্বালানি তেল আমদানিতে কম কর রাখা হয়েছে, যা নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে বড় বাধা। বিদ্যুৎ খাতে ৩৭ হাজার কোটি এবং জ্বালানি তেলের জন্য আরও ১০ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দেয়া হয়েছে। 

বিএসআরইএ’র সভাপতি মোস্তফা আল মাহমুদ বলেন, ‘আজকে যদি আমরা সত্যি সত্যি নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে বিশ্বাস করি এবং ধারণ করি তাহলে ওইভাবে পলিসি দিতে হবে। আজকে যে কাণ্ডটা বাজেটে করা হয়েছে, এটা আসলে খুবই স্পর্শকাতর। এখানে আমরা যারা বসে আছি, আমরা একজনও কিন্তু বাসার ছাদে সোলার প্যানেল লাগাতে চাইলে টেক্স ইনসেনটিভ পাব না।’  

চলতি অর্থবছর এডিপিতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে ৬টি প্রকল্প থাকলেও, বাজেটে ৫টি করা হয়েছে; বাতিল হয়েছে বেশ কিছু প্রকল্প। একইসঙ্গে, কৃষিখাতে সোলার সেচ চালুর বিষয়েও কার্যকর পদক্ষেপ নেই। 

কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘সৌরবিদ্যুতকে জনপ্রিয় করার জন্য যেভাবে বলা হচ্ছে, বাজেটের যে ইনসেনটিভ সেটাতে এটা ঠিকভাবে পরিষ্কার নয়। যেটা দরকার সেটা হলো কৃষিসেচের ক্ষেত্রে সোলার ডিভাইসের দাম যথেষ্ট কমানো দরকার। অন্তত ৫০ শতাংশ সাবসিটি এখানে দেওয়া দরকার।’ 

পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে সংশোধিত বাজেটে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বরাদ্দ বৃদ্ধি এবং জীবাশ্ম জ্বালানি আমদানিতে শুল্ক ও কর বাড়ানোর দাবি সিপিডির।