সৌরবিদ্যুৎ নিয়ে বড় চুক্তি হচ্ছে চীনের সঙ্গে: চিফ হুইপ

দেশের সৌরবিদ্যুৎ খাতের উন্নয়নে চীনের সঙ্গে একটি বড় চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এবারের চীন সফরেই এই চুক্তি স্বাক্ষর হতে পারে। আজ মঙ্গলবার রাজধানীর গুলশানে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমনটাই জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি।

‘পাকিস্তানে সৌর বিপ্লব: জাতীয় বাজেটের দৃষ্টিকোণ থেকে বাংলাদেশের জন্য শিক্ষণীয়’ শীর্ষক এই সংলাপের আয়োজন করে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ- সিপিডি। অনুষ্ঠানে খাত সংশ্লিষ্টরা জানান, পরিকল্পনা ছাড়া সোলার হোম সিস্টেম স্থাপন ও গ্রিড সম্প্রসারণে বিগত দিনে প্রায় ৪৭ শতাংশ সরঞ্জাম সম্পূর্ণ অকেজো ও অকার্যকর হয়ে পড়ে আছে। এজন্য শুধু স্থাপনা বাড়ালেই হবে না, এর দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহারও নিশ্চিত করতে হবে। আলোচনায় বিদ্যুৎ-জ্বালানি খাতের অতীতের দুর্নীতিগ্রস্ত চুক্তি বাতিলেরও আহ্বান জানান বিশ্লেষকরা।

উল্লেখ্য, দেশের প্রন্তিক গ্রাহকদের জন্য প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের মূল্য ৫ টাকা ৩২ পয়সা। আর ৭৬ থেকে ২০০ ইউনিট ব্যবহারে প্রতি ইউনিটের দাম ৮ টাকা ৫০ পয়সা। বিদ্যুতের এই মূল্য আগামীতে আরও বাড়বে। জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় জীবাশ্ম জ্বালানির বাইরে নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে গুরুত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

সিপিডি'র গবেষণায় উঠে আসে, জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় দক্ষিণ এশিয়ায় সৌর বিপ্লব চলছে পাকিস্তানে। গত দুই অর্থবছরে পাকিস্তান আমদানি করেছে প্রায় ৩৪ গিগাওয়াট সোলার প্যানেল। সোলারের কারণে ১২ বিলিয়ন ডলারের তেল ও গ্যাস আমদানি এড়ানো সম্ভব হয়েছে। একই সময়ে আমদানি করা কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ব্যবহার ৭৮ শতাংশ থেকে কমে ১১ শতাংশে নেমে এসেছে দেশটিতে। 

খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাংলাদেশে সৌর প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে বড় বাধা নীতিগত সিদ্ধান্ত। বাজেটে শুল্ক পুরোপুরি তুলে দেওয়া হলে সোলার সিস্টেমের খরচ ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে।

কার্যকর নীতি প্রণয়নের পাশাপাশি দুর্নীতিকে রুখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ারও আহ্বান জানানো হয় আলোচনায়। সেখানে বিপিডিবি'র ৬০ হাজার কোটি টাকা দেনার প্রসঙ্গ যেমন উঠে আসে, তেমনি পলিসি সাপোর্ট এবং আনুষঙ্গিক সাপোর্ট প্রদানের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন বক্তারা। 

সিপিডি'র আলোচনায় বক্তারা আরও বলেন, অতীতে দুর্নীতির কারনে অপরিকল্পিত সোলার সিস্টেমগুলোর প্রায় অর্ধেকই অকার্যকর হয়ে গেছে।

সিপিডি'র গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, আগের সরকারের সময় যে চুক্তিগুলো হয়েছিল, সেই চুক্তিগুলোর মধ্যে এমন ধরণের উপাদান ছিল যেগুলো বিপিডিবিকে আজকের এই অবস্থায় নিয়ে আসার জন্য অনেকাংশে দায়ী। 

অনুষ্ঠানে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ আরো জানান, চীনের সাথে চুক্তি হলে সোলারের দাম সবার নাগালের মধ্যে চলে আসবে।