অভ্যন্তরীণ ও বৈশ্বিক নানা অস্থিরতার মধ্যেও ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে (জানুয়ারি-জুন) ইতিবাচক অবস্থায় ছিল দেশের পুঁজিবাজার। এ সময়ে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স প্রায় ৯০০ পয়েন্ট বা ১৮ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে। সূচকের পাশাপাশি উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে লেনদেন, বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ এবং বেশ কয়েকটি খাতের শেয়ারের দর।
ডিএসইর তথ্য অনুযায়ী, বছরের প্রথম দিন ডিএসইএক্স সূচক ছিল ৪ হাজার ৯১০ পয়েন্ট। ছয় মাসের ব্যবধানে ৩০ জুন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫,৭৬৩ পয়েন্টে (ভিন্ন তথ্যে ৫,৭৬২)। অর্থাৎ, ছয় মাসে সূচক বেড়েছে ৮৫৩ পয়েন্ট। সূচকের পাশাপাশি লেনদেনেও বড় লাফ দেখা গেছে। ২০২৫ সালের ৩০ জুন যেখানে লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৪৬৪ কোটি ৫৩ লাখ টাকা, সেখানে ঠিক এক বছর পর ২০২৬ সালের ৩০ জুন লেনদেন দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৫৭৩ কোটি ৬৫ লাখ টাকায়।
খাতভিত্তিক রিটার্নে চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে সবচেয়ে বেশি এগিয়ে ছিল তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) খাত। এ খাতের শেয়ার থেকে সর্বোচ্চ ৫০ দশমিক ৫ শতাংশ ইতিবাচক রিটার্ন এসেছে। প্রথমার্ধে সবচেয়ে বেশি শেয়ারদর বাড়ার তালিকায় শীর্ষে ছিল ড্যাফোডিল কম্পিউটার্স; কোম্পানিটির শেয়ারদর বেড়েছে ৩৪৩ শতাংশ। অন্যদিকে, গত ছয় মাসে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হওয়া শেয়ারের শীর্ষে ছিল সিটি ব্যাংক। ব্যাংকটির দৈনিক গড় লেনদেনের পরিমাণ ছিল ১৯ কোটি ৮০ লাখ টাকা।
এশিয়ার অন্যান্য দেশের পুঁজিবাজারের সঙ্গে তুলনায় দেখা যায়, গত ছয় মাসে বাংলাদেশের পুঁজিবাজার বেশ ভালো অবস্থানে রয়েছে। যেখানে ডিএসইর সূচকে ১৮ দশমিক ৪ শতাংশ ইতিবাচক রিটার্ন এসেছে, সেখানে একই সময়ে ভারতের পুঁজিবাজারে ১০ দশমিক ২৯ শতাংশ এবং শ্রীলংকার পুঁজিবাজারে ১ দশমিক ৬ শতাংশ নেতিবাচক রিটার্ন ছিল।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, প্রথমার্ধের এই ইতিবাচক ধারা বছরের দ্বিতীয়ার্থেও বজায় রাখতে হলে নিয়ন্ত্রক সংস্থার নীতিগত স্থিতিশীলতা, তালিকাভুক্ত কোম্পানির সুশাসন, আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশে স্বচ্ছতা এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা আরও শক্তিশালী করা জরুরি। একই সঙ্গে বাজারে নতুন মানসম্মত কোম্পানি তালিকাভুক্ত করা, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বাড়ানো এবং তারল্যের প্রবাহ অব্যাহত রাখা গেলে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বজায় থাকবে। তবে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, সুদের হার, মূল্যস্ফীতি এবং দেশীয় অর্থনীতির সামগ্রিক অবস্থাও বাজারের ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।