১৫ শতাংশ বাড়িয়ে নতুন রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করল সরকার

চলতি অর্থবছরে ৬৩ দশমিক ৪০ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এর মধ্যে পণ্য খাতে ৫৫ দশমিক ২০ বিলিয়ন আর সেবা খাতে লক্ষ্যমাত্রা ৮ দশমিক ২০ বিলিয়ন ডলার, যা গত অর্থবছরের তুলনায় বেড়েছে প্রায় ১৫ শতাংশ।

রোববার সচিবালয়ে এ তথ্য জানান বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। এ সময় জ্বালানি সংকট কাটাতে সরকার কাজ করছে বলেও জানান মন্ত্রী।

প্রতিবছর নতুন অর্থবছরের রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণা করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৬-২৭ অর্থবছরের রপ্তানি লক্ষ্য নির্ধারণের তথ্য জানায় মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে রপ্তানি বাড়াতে সরকারের নানা পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন বাণিজ্যমন্ত্রী।

সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হলেও নতুন বছরে আরও উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা সরকারের। বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, শিপবিল্ডিং, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, যাতে তৈরি পোশাকের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নতুন রপ্তানি খাত গড়ে তোলা যায়। চলতি সপ্তাহে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি হবে বলেও জানান তিনি।

খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, ‘এই অর্থবছরে যেটা আমাদের রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা, সেটি হচ্ছে পণ্যের ক্ষেত্রেও ১৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি এবং সেবার ক্ষেত্রেও ১৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি। যদি আমরা সেটা অর্জন করতে পারি, তাহলে রপ্তানির পরিমাণ দাঁড়াবে প্রায় ৬৩ দশমিক ৪০ বিলিয়ন ডলার। তাতে পণ্য হবে ৫৫ দশমিক দুই বিলিয়ন এবং সেবা হবে আট দশমিক দুই বিলিয়ন ডলার। পণ্য এবং সেবা মিলিয়ে ৬৩ দশমিক চার বিলিয়ন হচ্ছে আমাদের এই অর্থবছরের রপ্তানির ঘোষিত লক্ষ্যমাত্রা।’

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতায় জ্বালানি সরবরাহে চাপ তৈরি হওয়ায় শিল্পকারখানার উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কার বিষয়েও কথা বলেন বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘জ্বালানি সংকট এখন বাস্তবতা। তবে এ সংকট মোকাবিলায় সরকার কাজ করছে, ধীরে ধীরে পরিস্থিতির উন্নতি হবে।’

খন্দকার আবদুল মুক্তাদির আশা প্রকাশ করে বলেন, ‘এই যে অচল অবস্থা বা রপ্তানির ক্ষেত্রে একটা মন্দা অবস্থা, আশা করি এই অর্থবছরে সেটা কিছুটা হলেও আমরা এই বৃত্ত ভেঙে বেরিয়ে আসতে পারব।’

উল্লেখ্য, গত অর্থবছরে রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫৫ বিলিয়ন ডলার, তবে অর্জিত হয়েছে ৪৮ বিলিয়ন ডলার।