এফবিসিসিআই'র নির্বাচন প্রসঙ্গে যা জানা গেল

নভেম্বরের মধ্যে অনুষ্ঠিত হচ্ছে দেশের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশন এফবিসিসিআইয়ের নির্বাচন। আগামী ২ বছরের জন্য যিনি নেতৃত্বে আসবেন, তার হাতেই থাকবে সরকারের সাথে নীতি নির্ধারণ, বিনিয়োগ আকর্ষণ আর রপ্তানি বাড়ানোর দায়িত্ব। দীর্ঘদিন পর নির্বাচন নিয়ে উচ্ছ্বাসিত ব্যবসায়ীরা। নেতৃত্ব নির্বাচনে গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহতের দাবি সংশ্লিষ্টদের। 

উল্লেখ্য, দেশের ৭৩টি চেম্বার আর ৪০টির বেশি অ্যাসোসিয়েশনের মিলিত সংগঠন এফবিসিসিআই। সরকার যখন নতুন শুল্ক, কর বা বিনিয়োগ নীতি প্রণয়ন করে, তখন সবার আগে কথা বলে দেশের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ এই সংগঠনের সাথে। আর সে কারণেই এফবিসিসিআই'র নির্বাচন শুধু ব্যবসায়ীদের নয়, বরং পুরো অর্থনীতির জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। 

টানা ২২ মাস পরিচালনা পর্ষদহীন এফবিসিসিআই'র নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ব্যবসায়ীদের থেকেই নতুন প্রশাসক দিয়েছে সরকার। নির্বাচনের লক্ষ্যে ইতিমধ্যে ৭টি চেম্বার এবং ৯টি ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতাদের নিয়ে গঠিত হয়েছে ১৬ সদস্যের সহায়ক কমিটি । 

নির্বাচন প্রসঙ্গে এফবিসিসিআই'র সাবেক পরিচালক খন্দকার রুহুল আমিন বলেন, 'আমরা (সরকারকে) সাধুবাদ জানাই এ কারণে যে, একজন ব্যবসায়ীকে (প্রশাসক হিসেবে) দিয়েছে ব্যবসায়ীদের পরিচালিত করার জন্য। সুতরাং উনার কাছে আমাদের আশা হবে যে, খুব তাড়াতাড়ি গণতান্ত্রিক পন্থায় সরাসরি ভোটের মাধ্যমে যেন আমরা প্রেসিডেন্ট, ভাইস প্রেসিডেন্ট, সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং ডিরেক্টর নির্বাচিত করতে পারি।' 

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পেলেই নির্ধারিত ১২০ দিনের মধ্যে নির্বাচিত পর্ষদের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তরের আশা সংগঠনটির নতুন প্রশাসক  মো. ফজলুল হকের। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, '১২০ দিনে নির্বাচন করার লক্ষ্য নিয়েই আমরা কাজ করে যাচ্ছি। বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ আছে, যেমন বাণিজ্য সংগঠন যে বিধিমালা তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। এটার সঙ্গে নির্বাচনের অনেক সম্পর্ক আছে। চেষ্টা থাকবে, যে একটি সুষ্ঠু, পরিচ্ছন্ন এবং (নির্বাচনে) টাকা পয়সার যাতে ছড়াছড়ি না হয়, সেরকম একটা পরিচ্ছন্ন নির্বাচন উপহার দেওয়া।'

ব্যবসায়ী সংগঠন দেখভালের দায়িত্ব মন্ত্রণালয়ের বাণিজ্য সংগঠন অনুবিভাগের। মহাপরিচালক জানান, নির্বাচনের লক্ষ্যে ঠিক করা হচ্ছে বাণিজ্য সংগঠন বিধিমালা ২০২৫। সবার মতামত নিয়ে দ্রুতই তা চূড়ান্ত করে  প্রকাশ করা হবে ওয়েবসাইটে। 

এ প্রসঙ্গে বাণিজ্য সংগঠন অনুবিভাগের মহাপরিচালক মোস্তফা জামাল হায়দার বলেন, 'বিষয়টা আইন মন্ত্রণালয়ও গুরুত্ব সহকারে নিয়েছে এবং সব কিছুর বিষয়ে তারা ওয়াকিবহাল আছেন। আর ওই কারণে আমরা আশা করি যে, আমাদের এখান থেকে আইন মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হলে খুব দ্রুতই তা ভেটিং হয়ে আসবে।'    

২০২৪ সালে সরকার পতনের পর দু দফায় মন্ত্রণালয় থেকে প্রশাসক নিয়োগ দিয়েও নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি।