ইসলামী ব্যাংক অনেকটাই নেতৃত্বশূন্য, স্থবির বড় সিদ্ধান্ত

দেশের সবচেয়ে বড় ইসলামী ব্যাংক এখন অনেকটাই নেতৃত্বশূন্য। দেড় মাসের বেশি সময় ধরে পূর্ণাঙ্গ পরিচালনা পর্ষদ ও চেয়ারম্যান ছাড়াই চলছে ব্যাংকটি। ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদও চলছে ভারপ্রাপ্ত দিয়ে। এমন অবস্থায় বড় ঋণ অনুমোদন, ঋণ পুনঃতফসিলসহ বিভিন্ন নীতিগত সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না ব্যাংকটি। বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, দ্রুত চেয়ারম্যানসহ নতুন পরিচালনা পর্ষদ গঠন করা হবে।

এক সময়ে দেশের সবচেয়ে শক্তিশালী ব্যাংক হিসেবে পরিচিত ইসলামী ব্যাংক। পতিত শেখ হাসিনা সরকারের সময় এস আলম ক্ষমতা নেয়ার পর থেকেই বিতর্কিত ঋণ বিতরণ, সুশাসনের ঘাটতি ও নানা অনিয়মের কারণে খেলাপি বাড়তে থাকে ব্যাংকটিতে।

গেল দেড় মাসেরও বেশি সময় ধরে ব্যাংকটির পূর্ণাঙ্গ পরিচালনা পর্ষদ নেই। চেয়ারম্যানের পদও শূন্য। একই সঙ্গে স্থায়ী ব্যবস্থাপনা পরিচালকও নেই। নিয়ন্ত্রক সংস্থা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক জহির হোসেনকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দিলেও , অনেক নীতিগত সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না ব্যাংকটি। ফলে বড় বিনিয়োগ, পুনর্গঠন ও ব্যবসায়িক পরিকল্পনার অনেক বিষয়ই প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে।

এমন অবস্থায় বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ পুর্নগঠনের কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে যোগ্য ব্যক্তিদের সমন্বয়ে নতুন বোর্ড গঠন করা হবে। 

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন,  কোনো চেয়ারম্যান বা সদস্যেকে নিয়ে যাতে বিতর্ক সৃষ্টি না হয়, এ জন্য অনেকটা বিশ্লেষণ করে খোঁজ–খবর নিয়েই পরিচালন পর্ষদ করা হচ্ছে। ব্যাংকটির পর্ষদ করা যে খুবই জরুরি, এ বিষয়টি বাংলাদেশ ব্যাংক ওয়াকিবহাল।

যদিও গেল কয়েক বছরে বিতর্কিত ঋণ বিতরণ, খেলাপি ঋণের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি, ব্যাংকের আয় কমে যাওয়ার প্রভাবে নতুন করে তারল্য সংকটে পড়ে ব্যাংকটি। বিশ্লেষকরা বলছেন, গ্রাহকদের আস্থা ফিরিতে আনতে, রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত ব্যক্তিদের সমন্বয়ে পর্ষদ গঠন করতে হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকিং এন্ড ইন্সুরেন্স বিভাগের চেয়ারম্যান শহীদুল জাহীদ বলেন, এখানে গ্রহণযোগ ব্যক্তিবর্গের সমন্বয়ে একটি পর্ষদ হওয়া উচিত। পর্ষদটি যে শুধু আমানতকারীদের আস্থায় আনবেন তা না, কর্মকর্তাদেরও আস্থায় রাখবেন। ইসলামী ব্যাংককেন্দ্রিক যে রাজনীতি, সেটাও যেন মুক্ত হতে পারে। 

দীর্ঘ সময় পূর্ণাঙ্গ পর্ষদ ও নিয়মিত ব্যবস্থাপনা পরিচালক না থাকায় ব্যাংকের স্বাভাবিক কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটছে কি না– এ ব্যাপারে জানতে চাইলে কথা বলতে রাজি হননি ব্যাংকটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।