বিনিয়োগ আকর্ষণের চেষ্টা সরকারের, জ্বালানি ঘাটতির সমাধান চান ব্যবসায়ীরা

বাণিজ্যে ভারসাম্য আনা ও বিনিয়োগে আকৃষ্ট করতে দ্বিপাক্ষিক চুক্তির দিকে ঝুঁকছে সরকার। তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, দেশে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের ঘাটতি, অবকাঠামো দুর্বলতা এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দূর না হলে এসব চুক্তির সুফল পাওয়া যাবে না। আর দ্বিপাক্ষিক চুক্তির টেকসই সফলতা পেতে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিতে জোর দেওয়ার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের। 

দেশের মোট বাণিজ্যের ৬০ ভাগই হয় হাতে গোনা কয়েকটি দেশের সঙ্গে। এর মধ্যে ভারত ও চীন থেকে আমদানি সবচেয়ে বেশি। রপ্তানি হয় মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বাজারে। এই ভারসাম্যহীনতা কমাতে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির দিকে ঝুঁকছে সরকার। 

সম্প্রতি বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে স্বাক্ষর হয় কম্প্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ অ্যাগ্রিমেন্ট। এর আগে জাপানের সঙ্গেও হয় এমন চুক্তি। এর আওতায় এসব দেশে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুল্ক সুবিধা পাওয়া যাবে।  

ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাণিজ্য অংশীদারত্ব শুধু চুক্তি নয়, এর অন্যতম উদ্দেশ্য বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা। কিন্তু দেশে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের ঘাটতি, অবকাঠামো দুর্বলতা এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দূর না হলে এসব চুক্তির সুফল পাওয়া যাবে না। 

এসএমই উদ্যোক্তা রাশেদুল করিম মুন্না বলেন, সরকারের পরিকল্পনা এবং এনবিআরের পরিকল্পনা– দুইটার মধ্যে সমন্বয়ে বড় ধরনের একটা চ্যালেঞ্জ আছে। গ্যাপ আছে। এটা কিন্তু ব্যবসাকে ত্বরান্বিত করছে না। সুতরাং আমি মনে করি, সরকারের যে রপ্তানি পলিসিগুলো রয়েছে সেটাকে ব্যবসাবান্ধব করা দরকার। যাতে উদ্যোক্তারা যে চ্যালেঞ্জ নিয়ে সামনে এগোবে, সেটাকে সহায়তা করে। 

বিকেএমইএ’র সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, জ্বালানির সংকটটা একটা বড় কারণ। দ্বিতীয় কারণটা হচ্ছে– একটা ইন্ডাস্ট্রি শুরু করতে গেলে বা বিনিয়োগ করতে গেলে যে পরিমাণ আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় পড়তে হয়। যে পরিমাণ লাইসেন্স করতে হয়। এবং এসব লাইসেন্সের জন্য যে পরিমাণ ভোগান্তি পোহাতে হয় এটা আরেকটা বড় প্রতিবন্ধকতা বলে আমরা মনে করছি। 

দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি বাস্তবায়নের অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে অন্যান্য দেশের সঙ্গে বড় পরিসরে বাণিজ্য সক্ষমতা বাড়াবে। সেজন্য পণ্যে বৈচিত্র্য ও বাণিজ্য সহায়ক অবকাঠামোয় নজর দেয়ার তাগিদ অর্থনীতিবিদদের। 

সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, চুক্তি ভালো, এটা আমাদের করতে হবে। কিন্তু চুক্তির সাথে সাথে অন্যান্য যেসব অনুঘটক আছে, সেগুলোও আমাদেরকে এড্রেস করতে হবে।  

নতুন রপ্তানি বাজার খোঁজার পাশাপাশি অর্থনৈতিক জোটগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির বিষয়ে জোর দেয়ার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের।