আমদানিকৃত এলএনজির ওপর বেশি নির্ভরতা, শিল্প খাতকে বড় ধরনের ঝুঁকিতে ফেলছে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দামে অস্থিরতা ও সরবরাহ সংকটের আশঙ্কায় উৎপাদন ব্যয়ের চাপও বাড়ছে। রোববার বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিপিডির এক অনুষ্ঠানে আলোচকরা বলেন, জ্বালানি সংকট দ্রুত সমাধান করা না গেলে, তৈরি পোশাকসহ রপ্তানমুখী শিল্পের উৎপাদন ও পণ্য সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
পোশাক কারখানার সেলাই বিভাগে ব্যবহৃত বেশিরভাগ যন্ত্রপাতি সহজে জ্বালানি সাশ্রয়ী বিকল্প দিয়ে পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। অথচ মোট যন্ত্রপাতির প্রায় ৮৫ শতাংশই রয়েছে এই বিভাগে। ফলে এখান থেকে জ্বালানি সাশ্রয়ের সুযোগ ৩ শতাংশেরও কম। এছাড়া কাটিং বিভাগে ২৭.৩ শতাংশ জ্বালানি সাশ্রয় করা সম্ভব। তবে মোট জ্বালানি ব্যয়ের একটি বড় অংশই দখল করে রেখেছে ওয়াশিং ও ডাইং বিভাগ।
সিপিডির আলোচনায় উদ্যোক্তারা বলেন, আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির জন্য যে মূলধন প্রয়োজন, তা অনেক কারখানার জন্য চ্যালেঞ্জ। তাই শুধু কর কাঠামোতে পরিবর্তন নয়, নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে ভর্তুকি দেওয়ার দাবি তাদের।
বর্তমান জ্বালানি সংকটের পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকারকে বিকল্প উদ্যোগ গঠনের পরামর্শ দেয় সিপিডি। শিল্প খাতে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় প্রযুক্তির আধুনিকায়ন, নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ এবং সরকারি প্রণোদনার সমন্বিত উদ্যোগ চান আলোচকরা।