গ্যাস সংকটে ৩০০ কারখানা বন্ধ, রপ্তানি ক্ষতির আশঙ্কা: বিকেএমইএ

দীর্ঘদিনের গ্যাস সংকটে সারা দেশে তিন শতাধিক গার্মেন্ট কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম। উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় দেশের রপ্তানি ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। একই সঙ্গে ইউরোপের ক্রেতারা রপ্তানি আদেশ প্রতিবেশী দেশগুলোতে সরিয়ে নিচ্ছেন বলে জানান তিনি।

শনিবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জে বিকেএমইএ কার্যালয়ে গ্যাস সংকট ও এর প্রভাব নিয়ে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আয়োজিত বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন মোহাম্মদ হাতেম।

তিনি বলেন, ‘গ্যাস সংকটের কারণে সারা দেশে তিন শতাধিক গার্মেন্ট প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে। রপ্তানি আদেশ পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে চলে যাচ্ছে। নতুন করে রপ্তানি আদেশ আসবে কি না, তা নিয়েও ব্যবসায়ীরা শঙ্কায় রয়েছেন। গ্যাসের অভাবে কোনোভাবেই উৎপাদন চালু রাখা সম্ভব হচ্ছে না। সংকট থেকে উত্তরণের বিষয়ে সরকারের কাছ থেকেও সুনির্দিষ্ট কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যাচ্ছে না।’

মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ‘সরকারের উচিত অন্তত প্রতি সপ্তাহে একবার আমাদের ব্রিফিং করা। এরই মধ্যে আমাদের ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ রপ্তানি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এটি আমাদের সরাসরি ক্ষতি। আর পরোক্ষ ক্ষতি হচ্ছে, ক্রেতারা পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে রপ্তানি আদেশ নিয়ে যাচ্ছে।’

গ্যাস সংকটের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘প্রায় এক মাস ধরে বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসের সংকট চলছে। এ সময়ে অনেক কারখানায় উৎপাদন বন্ধ ছিল। এর মধ্যে জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ১০ আগস্টের পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু দুই দিন কিছুটা গ্যাস পাওয়া গেলেও বর্তমানে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। ফলে কারখানাগুলোতে উৎপাদন চালানো সম্ভব হচ্ছে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘ইউরোপের বড় একটি ক্রেতা তাদের একটি বড় রপ্তানি আদেশ বাতিল করে পার্শ্ববর্তী দেশে নিয়ে যেতে চাইছে। গ্যাস সংকটের কারণে বেশ কিছু রপ্তানি আদেশ ইতোমধ্যে অন্য দেশে চলে যাচ্ছে। আমরা সামনের দিনগুলোতে নতুন রপ্তানি আদেশ পাব কি না, তা নিয়েও শঙ্কিত। আমাদের দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। সরকারকে অনুরোধ করব, এ বিষয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে।’

বৈঠকে ব্যবসায়ী নেতারা গ্যাস সংকট মোকাবিলায় সরকারের কাছে ছয়টি দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—জুন ও জুলাই মাসের গ্যাস ও বিদ্যুৎ বিল আগামী ১২ মাসে কিস্তিতে পরিশোধের সুযোগ দেওয়া এবং এ সময়ে বিল পরিশোধে ব্যর্থ হলেও সংযোগ বিচ্ছিন্ন না করা। সংকটের মধ্যে কারখানাগুলো কীভাবে উৎপাদন চালাবে, সে বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়ারও দাবি জানান তারা।

এ ছাড়া গ্যাস সংকট নিয়ে সরকারকে প্রতি সপ্তাহে ব্রিফিং করে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করা, গণপরিবহনে সিএনজি সরবরাহ বন্ধ রাখা, অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা এবং চলমান পরিস্থিতিতে ব্যবসায়ীদের ঋণের কিস্তি আদায় থেকে বিরত থাকার জন্য সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

বৈঠকে বিকেএমইএর নির্বাহী প্রেসিডেন্ট ফজলে এহসান শামীম, ভাইস প্রেসিডেন্ট (অর্থ) মোর্শেদ সারওয়ার সোহেল, সাবেক বিজিএমইএ সভাপতি কাজী মনীর, সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট অমল পোদ্দার, ভাইস প্রেসিডেন্ট আশিকুর রহমান, পরিচালক নজরুল ইসলাম স্বপন ও পরিচালক মামুনুর রশীদসহ সংগঠনটির অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।