মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার চালুর অগ্রগতি হলেও কর্মী নিয়োগের লাইসেন্স মাত্র ২৫ রিক্রুটিং এজেন্সির। খাত সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, সীমিত এজেন্সির কারণে বাড়তে পারে সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য। খরচও বাড়তে পারে কর্মীদের। গুরুত্বপূর্ণ এ শ্রমবাজার ঠিক রাখতে এজেন্সির সংখ্যা বাড়ানো ও কঠোর সরকারি নজরদারির পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ওমানের পর বাংলাদেশের চতুর্থ বৃহৎ শ্রমবাজার মালয়েশিয়া। এ পর্যন্ত দেশটিতে কর্মী গেছে ১৫ লাখের বেশি। দুই দেশের জনশক্তি নিয়োগের চুক্তি হয় ১৯৯২ সালে। অনিয়মের অভিযোগে ২০২৪ সালে বাংলাদেশের জন্য শ্রমবাজার সাময়িক বন্ধ করে মালয়েশিয়া সরকার। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর আবার খুলছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার।
সম্প্রতি বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগে ২৫ রিক্রুটিং এজেন্সির তালিকা প্রকাশ করেছে মালয়েশিয়া কর্তৃপক্ষ। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শ্রমবাজার চালু ইতিবাচক হলেও কিছু শঙ্কা রয়েছে।
আল আকাবা অ্যাসোসিয়েটস এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক আতিকুর রহমান আতিক বলেন, ‘আমরা যেহেতু বাংলাদেশি, আমাদের অনেক ক্ষেত্রেই দেখবেন অসুস্থ প্রতিযোগিতা। এখানে উভয়পক্ষই যদি সচেতন থাকে তাহলে এই অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব এবং এই প্রচেষ্টার কারণে আরও সহজভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। যদি তিন হাজার হতো তাহলে একটু নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে যেত।’
অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার ঘিরে বাংলাদেশের তিক্ত অভিজ্ঞতা নতুন নয়। সিন্ডিকেট তৈরির সুযোগ রেখে শ্রমবাজার চালু করলে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। শ্রমিক পাঠানোর প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও সাশ্রয়ী করার তাগিদ তাদের।
সেন্টার ফর এনআরবি এর চেয়ারপার্সন এস এম সেকিল চৌধুরী বলেন, ‘টেইসই হতে হলে এবং বাজারকে অবারিত রাখতে হলে সবসময়ই এইটার নিয়মিত তদারকি লাগবে। তা না হলে এইখানে সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবে, দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। যখন জটিলতা তৈরি হবে তখন বাজার বন্ধ করে দেবে। মালয়েশিয়া কিন্তু তিনবার শ্রম বাজার বন্ধ করেছে। সুতরাং এই জায়গাটা যাতে বন্ধ হয়ে না যায়।’
সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশ থেকে প্রায় দুই লাখ শ্রমিক নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করবে মালয়েশিয়া। এর মধ্যে ১০ হাজার শ্রমিক বিনামূল্যে নেওয়ার কথা জানিয়েছে দেশটি।